সেনা মোতায়েনের পরও হামলা অপ্রত্যাশিত: ড. কামাল

0
149
সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা।  ছবি: প্রথম আলো

সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরও হামলার ঘটনা অপ্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সেনাবাহিনী তাদের নিরপেক্ষ ঐতিহ্য সমুন্নত রাখবে।

আজ সোমবার বিকেলে পুরানা পল্টনের জামান টাওয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হোসেন এ কথা বলেন। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনারা বলেছিলেন সেনাবাহিনী নামলে পরিস্থিতি পাল্টাবে। সেনাবাহিনী নেমেছে, তারপরও বিভিন্ন স্থানে হামলা ও সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘তারা (সেনাবাহিনী) এসেছে। এখনো কিছু ঘটনা ঘটছে, এটা একদমই অপ্রত্যাশিত।’

ড. কামাল হোসেন বলেন, অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির কঠিন দায়িত্ব সেনাবাহিনীর ওপর ন্যস্ত হয়েছে। দেশে নিরাপদ পরিবেশে অবাধ সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে জাতি তাদের কাছে অতীতের মতো গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা প্রত্যাশা করে। তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী বাহিনীর একটা অতীতে যে ইতিহাস আছে। আমরা আশা প্রকাশ করছি, এই মুহূর্তে দেশবাসীর পাশে দাঁড়াবে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী। অতীতে তারা যেভাবে একটা নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা রেখেছে, সেই ঐতিহ্যকে তারা ধরে রাখবে।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই শীর্ষ নেতা অভিযোগ করে বলেন, দেশব্যাপী একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে নীল নকশা চলছে, সেটা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ও শুভবুদ্ধি সম্পন্ন কারও কাছেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটা হবে আত্মঘাতী। এমনটা হলে দেশ ও জাতি চরম ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

নির্বাচনের পরিবেশ সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যে কথা বরাবর বলে আসছি, সরকার ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে এই নির্বাচনকে একটা প্রহসনে পরিণত করেছে। যাঁরা একটু ভাবতে পারেন, তাঁরা চিন্তাই করতে পারেন না এ ধরনের একটা নির্বাচন হতে পারে। নির্বাচনকে তারা একটা তামাশায় পরিণত করেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে ড. কামালের লিখিত বক্তব্য পড়েন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তাতে বলা হয়, একাদশ সংসদ নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর পর থেকে যে সংঘাতময় ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়, আজও তার কোনো বিন্দু মাত্র দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। বরং প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সহিংসতা। নির্বাচন কমিশন কোনো মতেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির অন্তরায় হিসেবে চলমান নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির দায় এড়াতে পারে না। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো হচ্ছে বলেও লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়।

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাঁধা প্রদানের অভিযোগ করে লিখিত বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন বলেন, একদিকে নির্বাচনের অবাধ সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে না, অন্যদিকে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আসতে কৌশলে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে করা হচ্ছে রহস্যজনক আচরণ। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দেশ-বিদেশি সম্ভাব্য পর্যবেক্ষকদের জন্য সরকার কর্তৃক সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা অবিলম্বে দূর করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

তফসিল ঘোষণার পর থেকে এই পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রায় ৭ হাজার নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান ড. কামাল হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে পেশাজীবী নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বিকল্পধারার নুরুল আমিন ব্যাপারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here