সতর্ক থাকুন, সন্ত্রাস করলে পুলিশে দিন

0
63
সতর্ক থাকুন, সন্ত্রাস করলে পুলিশে দিন

সুধা সদন থেকে গতকাল ভিডিও কনফারেন্সে জনসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : বাসস

নির্বাচন ঘিরে বিএনপি-জামায়াতের ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ প্রতিরোধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিএনপি নাশকতা ঘটাতে পারে। ভোটের দিন কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে এলে তাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিতে বলেছেন তিনি। একই সঙ্গে ভোটের দিন সকাল সকাল কেন্দ্রে গিয়ে নৌকায় ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দেবে এবং আমরা আবার বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করব।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিন গতকাল বৃহস্পতিবার নিজের ব্যক্তিগত বাসভবন ধানমণ্ডির সুধা সদন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, যশোর, পাবনা ও পঞ্চগড়ে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। একই সময় নিজ নির্বাচনী এলাকা টুঙ্গিপাড়ার জনসভায় টেলিফোনে বক্তব্য দেন তিনি।

ভিডিও কনফারেন্সের শুরুতেই কুমিল্লার সঙ্গে যুক্ত হয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের নিজ নিজ এলাকায় চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আপনারা নিরাপদে থাকবেন। কারণ এরই মধ্যে বিএনপি-জামায়াত মিলে ১ থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে এবং ৪৪১ জনকে আহত করেছে। আওয়ামী লীগের ১৭০টা অফিস-বাড়িঘর তারা ভাঙচুর করেছে, ৫৪টা স্থানে বোমা হামলা করেছে। পেট্রলবোমা হামলাও চালানো হয়েছে। ৬৮টি স্থাপনা ও যানবাহনে তারা হামলা করেছে। পুলিশের ওপরও তারা হামলা করেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচনে যে পরাজয় নিশ্চিত, তা বিএনপি জোট বুঝতে পেরেছে। ফলে তারা যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে অথবা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালাতে পারে। এ জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত জোটের এই চরিত্রটা বদলাতে হবে। কারণ এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের মানুষ কখনো পছন্দ করে না। কখনো পছন্দ করবে না। সারা বাংলাদেশের সবাইকে অত্যন্ত সজাগ থাকতে হবে। এ ধরনের সন্ত্রাসী কাজ যদি কেউ করতে আসে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার হাতে তাদের তুলে দিতে হবে।’ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঠেকাতে আওয়ামী লীগের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকারও আহ্বান জানান দলের সভাপতি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ শান্তি চায়। এ নির্বাচনটাও শান্তিপূর্ণ হবে। অবাধ, সুষুম ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে এবং সবার অংশগ্রহণে এই নির্বাচন অর্থবহ হবে।’

স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির বিজয়ী হওয়ার আশা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আশা করি ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বাংলার জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবার একটি বিজয় নিয়ে আসবে। আমি বিশ্বাস করি, জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দেবে এবং আমরা আবার বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করব।’

আগামীতে ক্ষমতায় এলে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া ও দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি জানি, বিএনপি-জামায়াতের চরিত্রটাই হলো সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, অস্ত্র চোরাকারবারিসহ নানা অপকর্মে এরা লিপ্ত থাকে। ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫-তে এরা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে। মসজিদে আগুন দিয়েছে, কোরআন শরিফ পুড়িয়েছে। এরা করেনি এমন কোনো কাজ নেই। তারা ধ্বংস করতে জানে। তারা জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছে, বাংলাভাই সৃষ্টি করেছে। এরা শুধু মানুষের ক্ষতি করতে পারে। কাজেই এ ধরনের জঙ্গি-সন্ত্রাসী, যারা দেশের সম্পদ লুটপাট করে, দেশের সম্পদ পাচার করে, এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে—এরা বাংলাদেশের মানুষকে কিছু দিতে পারবে না।’ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় জঙ্গি দমনে সফলতার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে জঙ্গি-সন্ত্রাস, মাদক দূর করে মানুষের জীবনে শান্তি-নিরাপত্তা দিতে চাই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে অভিযান শুরু হয়েছে, সেটা অব্যাহত থাকবে। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here