মোদির গুজরাট থেকে পালাচ্ছেন হিন্দিভাষীরা

0
210

গুজরাটে একটি ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জাতিগত হিংসা। বিজেপি-শাসিত রাজ্যটির পুলিশ অবশ্য হিংসা রুখতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করছে। কিন্তু, ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, অশান্তি অব্যহত রয়েছে এবং সে কারণে প্রতিদিন অসংখ্য হিন্দিভাষী শ্রমিক শ্রেণির মানুষ গুজরাট ছেড়ে নিরাপদস্থানে চলে যাচ্ছেন।

গুজরাটে কয়েক লক্ষ শ্রমিক শ্রেণির মানুষ বাস করেন- যাদের স্থায়ী আবাস বিহার, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং ঝাড়খন্ডসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি, সম্প্রতি এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে গুজরাটে কাজের জন্যে আসা বিহারের এক বাসিন্দার বিরুদ্ধে। এরপর থেকেই সেখানে গুজরাটি ভাষা ছাড়া অন্য ভাষাভাষী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার শুরু হয়।

সে কারণে জীবন বাঁচাতে গত কয়েক দিন গুজরাট ছেড়ে পালিয়েছেন বিহার-উত্তরপ্রদেশের হিন্দিভাষী হাজার হাজার শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা।

জি নিউজের এক খবরে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার শ্রমিক গুজরাট থেকে তাদের নিজেদের রাজ্যে চলে গিয়েছেন।

এমন চলতে থাকলে ‍গুজরাটের বহু নির্মাণ কাজের জন্যে শ্রমিক পাওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে অনেক রেস্তোরাঁর কর্মীরা পালিয়ে গিয়েছেন। ফলে বহু রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন মালিকরা।

পশ্চিমবাংলার আনন্দবাজার পত্রিকার এক খবরে জানা যায়, হিংসার ঘটনায় অন্তত ৩৪২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে গুজরাটের পুলিশ। মামলা হয়েছে ৪২টি।

গুজরাটের মেহসানা, সবরকণ্ঠা, গান্ধিনগর, পাটান এবং আহমেদাবাদ এই পাঁচটি জেলাতে হিংসার ঘটনা ঘটছে।

তবে রাজ্য থেকে হিন্দিভাষীদের চলে যাওয়ার খবরকে অতিরঞ্জিত বলে দাবি করেছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি শিবানন্দ ঝাঁ। তিনি বলেন, উৎসবের সময় বাইরের রাজ্যের বাসিন্দারা তাদের বাড়ি ফিরবেন এটাই স্বাভাবিক। সেটাকে এই ধরণের একটি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়াটা অতিরঞ্জিত।

তিনি স্বীকার করেন, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। রাজ্য পুলিশের ১৮ কোম্পানি পুলিশ ছয়টি জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।

তবে এসব ঘটনার জন্য রাজ্য পুলিশের ওই কর্মকর্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন উস্কানিমূলক পোস্টকে দায়ী করেছেন।

গুজরাটের এই নতুন হিংসার ঘটনায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সর্তক করে দিয়েছেন কংগ্রেসের একজন শীর্ষ নেতা সঞ্জয় নিরুপম।

জি নিউজের খবরে বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীকে নিরুপম হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেছেন গুজরাট থেকে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের শ্রমিকদের পালাতে বাধ্য করছে বিজেপি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে একদিন উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতেও যেতে হবে।

এদিকে ধর্ষিত শিশু গুজরাটের ঠাকুর সম্প্রদায়ের। সেই ধর্ষণের পরই ঠাকুর সম্প্রদায়ের মানুষ বিহার-উত্তরপ্রদেশের হিন্দিভাষী শ্রমিকদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন বলে গণমাধ্যমগুলো দাবি করেছে।

এমনকি, ভারতীয় গণমাধ্যমের আরও দাবি, ওই হামলা পেছনে হাত রয়েছে গুজরাটের কংগ্রসনেতা অল্পেশ ঠাকুরেরও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here