ভোটের মাঠে শুরু সেনা টহল

0
87
সেনা সদস্যদের টহল

সেনা সদস্যদের টহল।ছবি-যুগান্তর

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টহল শুরু করেছে সেনাবাহিনী। সোমবার রাজধানীর হাজারীবাগ, খিলগাঁও, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, কোতোয়ালি, ওয়ারী, উত্তরায় মাঠে নেমে অস্থায়ী ক্যাম্প করেছে সেনাবাহিনী। এদিন রিটার্নিং অফিসারের (জেলা প্রশাসক) তত্ত্বাবধানে আন্তঃবাহিনী সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এদিকে প্রতি জেলা, উপজেলায় ও দুর্গম এলাকাসহ ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েন হয়েছে। নিজ নিজ এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী ক্যাম্প গড়ে টহল শুরু করেছেন সেনা সদস্যরা। আইএসপিআর জানিয়েছে, ভোট গ্রহণের আগে, ভোট গ্রহণের দিন ও পরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশন এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দেবে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’র আওতায় সারা দেশে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আইএসপিআরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলমগীর কবির যুগান্তরকে বলেন, সারা দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তারা কাজ শুরু করেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন থানায় কথা বলে জানা গেছে, হাজারীবাগের বেড়িবাঁধ, দারুল সালামের বুদ্ধিজীবী মাজারের পাশে কমিউনিটি সেন্টারে, কোতোয়ালি এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী ক্যাম্প গড়েছে সেনাবাহিনী। আর এসব ক্যাম্প থেকে টহল শুরু করেছে।

আইএসপিআর জানায়, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়কে নিরাপদ যান চলাচল ও রিটার্নিং অফিসারের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ভোট কেন্দ্রের অভ্যন্তরে কিংবা ভোট গণনা কক্ষের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে দায়িত্ব পালন করবে।

সোমবার সকালে রাজধানীর রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে চলমান ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মক ভোটিং কার্যক্রম পরিদর্শনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা বলেন, নির্বাচনী দায়িত্বে সেনা সদস্যরা মাঠে নামায় ভোটারদের মধ্যে আস্থা বাড়বে।

সিইসি বলেন, সেনাবাহিনী মোতায়েনের ফলে ভোটারদের মনে আস্থা ফিরে আসবে। সেনাবাহিনী মোতায়েনের উদ্দেশ্য হলো ভোটারদের মনে আস্থা তৈরি করা।

এদিন দুপুরে ফেনীর এক নির্বাচনী জনসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী মাঠে নেমেছে। তারা কোনো দলের বা পক্ষের নয়। তাই এ নিয়ে কারও উচ্ছ্বসিত হওয়ার কারণ নেই। এই বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ কিংবা বিতর্কিত করে- এমন বক্তব্য থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে সেনাবাহিনীই এখন একমাত্র ভরসা। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী।

এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব জেলা, উপজেলায় সেনাবাহিনী রাস্তায় টহল দেয়া শুরু করেছে। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।

সেনা সদস্য ছাড়াও বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব ও কোস্টগার্ড সদস্যরা মাঠে টহল দিচ্ছে। সেনাবাহিনীর টহল শুরু হওয়ায় ভোটারদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। এদিকে সুষ্ঠু নির্বাচনে জেলা প্রশাসকদের তত্ত্বাবধানে আন্তঃবাহিনীর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

যুগান্তরের মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সোমবার সকাল থেকে মানিকগঞ্জের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী ক্যাম্প গড়ে কাজ শুরু করেছে তারা। সেনাবাহিনীর টহল শুরু হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

ফতুল্লা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক) তত্ত্বাবধানে আন্তঃবাহিনী সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে জাতির প্রত্যাশা মেটাতে সেনা সদস্যরা বদ্ধপরিকর।

সভায় উপস্থিত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাকিব বলেন, আসন্ন নির্বাচনে সেনাবাহিনীর প্রায় ৪০০ সদস্য এ জেলায় দায়িত্ব পালন করবে। তাদের জন্য পাঁচটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। বিজিবির সিও লে. কর্নেল আল-আমিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিজিবির প্রায় ৪৫০ জন সদস্য ইতিমধ্যে দায়িত্ব পালন শুরু করেছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ বলেন, নির্বাচন ঘিরে জেলা পুলিশের কর্মযজ্ঞ অনেক আগ থেকেই শুরু হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here