প্রচার শেষে হিসাবের পালা

0
163
প্রচার শেষে হিসাবের পালা

সিলেট-১ আসনে গতকাল নৌকার প্রার্থী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের শেষ প্রচার মিছিল। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে আগামী রবিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত এই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাঠে আছে বিএনপি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগমুহৃর্ত পর্যন্ত নানা টানাপড়েন ও নাটকীয়তা থাকলেও প্রচার কার্যক্রমের শেষ দিনে সারা দেশে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। শীত উপেক্ষা করে গতকাল বৃহস্পতিবার দিনরাত জনসভা, পথসভা ও গণসংযোগ চালিয়েছে বিভিন্ন দলের প্রার্থী, নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। সব দলের প্রার্থী ও সমর্থকরা সব জায়গায় সমানভাবে সরব না থাকলেও নানা কৌশলে প্রচার চালিয়েছে বিএনপি ও এর মিত্ররা। তবে কিছু স্থানে প্রতিপক্ষের বাধার সম্মুখীন হতে হয় বলে তারা অভিযোগ করেছে।

এদিকে গতকাল দেশের কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণের মহড়া হয়েছে। ওই সব স্থানে ভোটাররা নতুন এই পদ্ধতি সম্পর্কে পরিচিত হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও এর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী মহাজোট, বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকরা প্রচারাভিযানের শেষ পর্যায়ে মরিয়া হয়ে ঘুরেছে ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে। শহরে তো বটেই গ্রামাঞ্চলেও গভীর রাত পর্যন্ত চায়ের দোকানগুলো ছিল জমজমাট।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এ (আরপিও) ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে সব ধরনের প্রচার বন্ধ রাখার বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী আজ শুক্রবার সকাল ৮টার পর থেকে কোনো নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম চালানো যাবে না। আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়েছিল গত ১০ ডিসেম্বর।

বরাবরই প্রচারের শেষ দিনে বড় জনসভা, মিছিল ও সমাবেশ করে থাকে দলগুলো। কিন্তু এই চিত্র এবার সবখানে ছিল না। নির্বাচনী প্রচারে ক্ষমতাসীনদের মতো তৎপরতা দেখা যায়নি বিএনপি ও এর মিত্রদের। গ্রেপ্তার ও হামলার আতঙ্কে বেশির ভাগ স্থানেই তারা নীরবে প্রচার চালিয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষে এখন জয়-পরাজয় নিয়ে হিসাব মেলাচ্ছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা।

সিলেটে প্রধান দুই প্রার্থীর সমাবেশ : আমাদের সিলেট অফিস জানায়, সিলেট-১ (সদর ও মহানগর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল নিজের শেষ নির্বাচনী সভায় সিলেটকে উন্নত ও আলোকিত নগর হিসেবে গড়ে তুলতে নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সভায় ভাইয়ের পক্ষে ভোট চান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

সকালে নিজের বাসার পার্শ্ববর্তী নাইরপুল এলাকা থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন ড. এ কে আব্দুল মোমেন। বিকেলে নগরের কোর্ট পয়েন্টে জমায়েত শেষে এক প্রচার মিছিল নগর প্রদক্ষিণ করে। মিছিলটি সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সিলেট-১ আসনে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরও শেষ দিনে সমাবেশে বক্তৃতা করেছেন। গতকাল নগরের জিন্দাবাজারে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের ব্যানারে ধানের শীষের সমর্থনে গণসংযোগ-পরবর্তী নির্বাচনী সমাবেশে তিনি বক্তৃতা করেন।

নগরের তাঁতিপাড়া এলাকা থেকে গণসংযোগ শুরু করে জিন্দাবাজার পয়েন্ট হয়ে বন্দরবাজার কোর্টপয়েন্টে গিয়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, ‘সরকারি দলের চাপে পুলিশ প্রশাসনের কিছু বিপথগামী লোক ধানের শীষের সমর্থকদের ৩০ তারিখ ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, সকল ভয়কে জয় করে সিলেটবাসী ফজরের নামাজের পর ভোটকেন্দ্রে যাবেন। ইনশাআল্লাহ, বিকেলের বিজয় মিছিলটি আমাদেরই হবে।’

গণসংযোগকালে ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি চৌধুরী মোহাম্মদ সুহেলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বড় দুই দলের প্রার্থীদের বাইরে ছোট দলগুলোর প্রার্থীরাও সারা দিন ব্যস্ত ছিলেন প্রচারে। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী প্রণব জ্যোতি পাল দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত সিলেট নগরের আদালতপাড়ায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন।

ফেসবুক লাইভে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ : মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকালে গণসংযোগ করেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। নিজ গ্রাম ধুম এলাকার মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে বাড়ি ফিরে ফেসবুক ব্যবহারকারী ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে ‘লাইভে’ আসেন তিনি। ওই সময় তিনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের গত ১০ বছরে মিরসরাই অঞ্চলে অভূতপূর্ব উন্নয়নের কথা তুলে ধরে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট চান। দুপুর ১টায় মোশাররফ হোসেন বারইয়াহাট পৌর এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে তিনি বাজারের দোকানদার ও বাসিন্দাদের সঙ্গে দেখা করে নৌকা মার্কায় ভোট চান।

হঠাৎ তুঙ্গে এরশাদের পক্ষে প্রচার : রংপুর প্রতিনিধি জানান, রংপুর-৩ আসনে মহাজোট মনোনীত প্রার্থী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এক দিনের জন্যও এলাকায় যাননি। মূলত তফসিল ঘোষণার পরপরই অসুস্থ হয়ে কিছুদিন ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে এবং সিঙ্গাপুরে যান তিনি। এ অবস্থায় রংপুরের অন্য পাঁচটি আসনে যখন ভোটের প্রচার তুঙ্গে, তখন রংপুর-৩ আসনে জাপার নেতাকর্মীরা থেকেছে অনেকটাই নীরব। গতকাল হঠাৎ করেই তুঙ্গে ওঠে এরশাদের পক্ষে প্রচার। রংপুর নগরজুড়ে লাঙল প্রতীকের পোস্টার সাঁটানোর পাশাপাশি দফায় দফায় মিছিল করে জাপার নেতাকর্মীরা।

রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসিরের নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা নগরীর বিভিন্ন স্থানে ভোটারদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করে ভোট চায়। এ ছাড়া তিন-চারটি ইজি বাইকে মাইক লাগিয়ে প্রচার চালানো হয়েছে।

ত্রিশালে হামলার শিকার প্রার্থী : ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, মহাজোট মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমীন মাদানী গতকাল ভোরে উপজেলার ১ নম্বর ধানীখোলা ইউনিয়নে কাটাখালী গ্রামে গণসংযোগ শুরু করে সোনাখালী, পাজলার চর, দক্ষিণ ভাটিপাড়া, কাঁঠাল ইউনিয়নের বিলবোকা, তেঁতুলিয়াপাড়া, বালিয়ারপাড়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠক করেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন প্রথম দিকে নির্বিঘ্নে প্রচার চালালেও গত দু-তিন দিন ধরে হামলা শিকার হচ্ছিল তাঁর কর্মীরা। বিচ্ছিন্নভাবে মাইক ভাঙচুর, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেওয়ার ঘটনা ঘটছিল। বুধবার রাতে ডা. লিটন গণসংযোগ করতে ত্রিশাল পৌর সদরে বের হলেও সেখানে হামলার শিকার হয়ে নিজ বাসভবনে প্রতিবাদসভা করেন।

চুয়াডাঙ্গায় ধানের শীষের পোস্টার নেই : চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, গতকাল এলাকা ঘুরে বিএনপির ধানের শীষের পোস্টার কিংবা নির্বাচনী অফিস দেখা যায়নি। চুয়াডাঙ্গা সদরে আওয়ামী লীগের সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এবং বিএনপির মো. শরীফুজ্জামান শরীফ শেষ দিনে প্রচার চালিয়েছেন।

নরসিংদীতে জমজমাট প্রচার এক পক্ষের : নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, নরসিংদীর পাঁচটি আসনেই নির্বাচনী পথসভা ও জনসভার মধ্য দিয়ে প্রচার শেষ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। তবে পাঁচটি আসনের কোথাও বিএনপির প্রার্থীদের নির্বাচনী মাঠে দেখা যায়নি। এমনকি অনেক প্রার্থী নির্বাচনী এলাকায় যাননি বলেও নিশ্চিত করেছেন বিএনপির একাধিক নেতা।

গতকাল নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা নিজ নিজ আসনে পথসভা ও জনসভা করেন। নরসিংদী-১ (সদর) আসনে নৌকার প্রার্থী ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. নজরুল ইসলাম হীরু বীরপ্রতীক বিকেল ৩টায় শহরের পশ্চিম কান্দাপাড়ায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে পথসভা করেন। নরসিংদী-২ (পলাশ ও সদরের একাংশ) আসনে নির্বাচনী এলাকা আমদিয়া ইউনিয়নের বোনাইত স্কুলমাঠে নির্বাচনী জনসভা করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপ। গত সোমবার দুপুরে বিএনপির প্রার্থী, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীর ওপর দুর্বৃত্তদের হামলার পর থেকে নির্বাচনী এলাকায় যাননি তিনি।

নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জহিরুল হক ভূঞা মোহন দিনব্যাপী নির্বাচনী এলাকার ইটাখোলা, শাষপুর ও শিবপুরে পথসভা করেন। শিবপুরের বর্তমান এমপি সিংহ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা গতকাল দিনব্যাপী চক্রধা ও পুটিয়ায় বেশ কয়েকটি পথসভা করেন।

নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বিকেল ৩টায় বেলাবতে গণমিছিল ও বেলাব মর্ডান পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভা করেন। বিএনপির প্রার্থী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করলেও গত তিন-চার দিন ধরে কোথাও নির্বাচনী প্রচার করেননি।

নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাজিউদ্দিন আহম্মেদ রাজু সেরাজনগর এমএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পথসভা করেন। আর বিএনপির প্রার্থী মো. আশরাফ উদ্দিন বকুলের কোথাও প্রচার চালানোর খবর পাওয়া যায়নি।

নীলফামারীতে শোভাযাত্রাসহ ব্যাপক প্রচার : নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, জেলার চারটি আসনেই গতকাল প্রচার চালিয়েছেন প্রার্থীরা। তবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা মিছিল সমাবেশ করলেও জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীরা পথসভা ও জনসংযোগের মাধ্যমে দিন কাটিয়েছেন। পাশাপাশি জেলা শহরে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে গতকালও পোস্টার, ব্যানার টাঙ্গাতে দেখা গেছে।

নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে ডিমলা উপজেলা শহর থেকে একটি মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। একইভাবে জাতীয় পার্টির পক্ষে বিকেলে ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম চৌধুরী আমবাড়ি, গোমনাতিসহ বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ করেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী জাফর ইকবাল সিদ্দিকী ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী আফতাব উদ্দিন সরকার এলাকায় জনসংযোগ করেছেন।

নীলফামারী-২ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আসাদুজ্জামান নূরের পক্ষে সকালে শহরের জুম্মাপাড়ায় নারী সমাবেশ করে শহরে একটি শোভাযাত্রা বের করে নারীরা। জামায়াতের মনিরুজ্জামান মণ্টুর পক্ষে কোনো শোভাযাত্রা হয়নি। তবে বিকেলে ও সন্ধ্যায় সোনারায় ইউনিয়নের জাকিরগঞ্জ হাট ও শহরের মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজ মাঠে পথসভা হয়।

নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল উপজেলা শহরে শোভাযাত্রা এবং জলঢাকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পথসভা করেন।

ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী জামায়াতের আজিজুল ইসলাম ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচার চালিয়েছেন।

নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর কিশোরগঞ্জ) আসনে মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির আহসান আদেলুর রহমানের পক্ষে বিকেলে সৈয়দপুর শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়ক থেকে একটি শোভাযাত্রা করে সেখানে ফিরে পথসভায় মিলিত হন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহিদুল ইসলাম (হাতপাখা) সন্ধ্যায় শহরের তামান্না মোড়ে পথসভা করেন।

রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, রাজবাড়ী-১ আসনে শেষ জনসভা করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। গতকাল বিকেলে জেলা শহরের শহীদ খুশি রেলওয়ে ময়দানে ওই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর থেকে বিপুলসংখ্যক জনমানুষের সমাগম ঘটে সেখানে। জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডা. আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, ঝালকাঠি-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু গতকাল সকালে বিনয়কাঠি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেন। পরে তিনি দাসেরপুল মোল্লা মার্কেট চত্বরে পথসভায় বক্তব্য দেন। গণসংযোগ ও পথসভায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেয়। এদিকে নৌকার সমর্থনে ঝালকাঠি শহরে মিছিল হয়েছে। শহরের কুমারপট্টি থেকে মিছিলটি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মাগুরা প্রতিনিধি জানান, মাগুরা-১ আসনে মহাজোট প্রার্থী সাইফুজ্জামান শিখরের পক্ষে জেলা মহিলা লীগের আয়োজনে গতকাল বিকেলে শহরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুল লায়লা জলি। মাগুরা-১ আসনের বিভিন্ন এলাকার ১০ সহস্রাধিক নারী সমর্থক এতে অংশ নেয়।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে  গতকাল দুপুরে মহাজোট প্রার্থী আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি মাহাবুব আরা বেগম গিনির সমর্থনে এক বিশাল শোভাযাত্রা জেলা শহর প্রদক্ষিণ করে। এতে নেতৃত্ব দেন প্রার্থী গিনিসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ মহাজোটভুক্ত বিভিন্ন দলের নেতারা। গাইবান্ধা পৌর শহীদ মিনার থেকে শোভাযাত্রাটি বেরিয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জি এম কাদেরের জন্য গতকাল সন্ধ্যায় ভোট চেয়েছেন অভিনেতা মাহফুজ আহমেদ। জি এম কাদের তাঁর শ্বশুর। মাহফুজ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন। মাহফুজের সঙ্গে ছিলেন অভিনেত্রী বিজরী বরকত উল্লাহ ও তানজিম সুইটি এবং মীর সাব্বির, শাহরিয়ার নাজিম জয় ও সাজু খাদেম। তাঁদের এ গণসংযোগ শেষ দিনে আলাদা আবহ তৈরি করে। ‘আমরা বাংলাদেশের পক্ষে। বাংলাদেশ শেখ হাসিনার পক্ষে। শেখ হাসিনা লাঙলের পক্ষে’ লেখাসংবলিত ব্যানার নিয়ে ট্রাকে বানানো ভ্রাম্যমাণ সাংস্কৃতিক মঞ্চের মাধ্যমে তাঁরা প্রচার চালান।

অন্যদিকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আসাদুল হাবিব দুলুও ছিলেন দিনব্যাপী গণসংযোগ-প্রচারে। সন্ধ্যায় তিনি কুলাঘাটে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন এবং রাতে কুলাঘাটের সাঁকোয়া স্কুলমাঠে সভার মাধমে নির্বাচনী প্রচার শেষ করেন।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, পঞ্চগড়ের দুটি আসনে প্রার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে জনসভা এবং গণসংযোগের মাধ্যমে প্রচার চালিয়েছেন। পঞ্চগড়-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মজাহারুল হক প্রধান গতকাল বিকেল ৫টার দিকে পঞ্চগড় শহরের জালাসী এলাকায় পঞ্চগড় উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভা করেছেন। একই সময়ে পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির সদর উপজেলার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউটের মাঠে জনসভা করেন। ওই জনসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার উপস্থিত ছিলেন।

পঞ্চগড়-২ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নূরুল ইসলাম সুজন সন্ধ্যায় দেবীগঞ্জ উপজেলা শহরের দেবদারুতলায় এবং রাতে বোদা উপজেলা শহরের ধানহাটি মাঠে জনসভা করবেন।

এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ বিকেলে বোদা উপজেলার ময়দান দীঘি এলাকায় গণসংযোগ চালান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here