নমিতা দাসের অন্য রকম ব্যবসা

0
71
নিমতা দাসের ব্যবসার পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নারী-পুরুষ মিলে ২৫ থেকে ৩০ জন শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করছেন। ১১ ডিসেম্বর, হাতিরঝিল। ছবি: সাবরিনা ইয়াসমীন

নিমতা দাসের ব্যবসার পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নারী-পুরুষ মিলে ২৫ থেকে ৩০ জন শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করছেন। ১১ ডিসেম্বর, হাতিরঝিল। ছবি: সাবরিনা ইয়াসমীন

রাজধানীর হাতিরঝিল, দিলু রোডে হঠাৎই চোখে পড়ে ছাদে লাইন করে সাদা বিছানার চাদর, বালিশের কভারসহ বিভিন্ন কাপড় শুকানো হচ্ছে। কাপড়গুলো যে হাসপাতালের এবং সাধারণ ব্যবহারের জন্য নয়, তা স্পষ্ট। একতলা বাড়ির ভেতর ঢুকে মনে হলো, পুরো বাড়িই আসলে একটি ধোপাবাড়ি। বিভিন্ন হাসপাতালের কাপড় ধোয়া, শুকানো, ইস্ত্রি করে আবার তা হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে পুরো বাড়িতে।

সাবরিনা ইয়াসমীনরাজধানীর হাতিরঝিল, দিলু রোডে হঠাৎই চোখে পড়ে ছাদে লাইন করে সাদা বিছানার চাদর, বালিশের কভারসহ বিভিন্ন কাপড় শুকানো হচ্ছে। কাপড়গুলো যে হাসপাতালের এবং সাধারণ ব্যবহারের জন্য নয়, তা স্পষ্ট। একতলা বাড়ির ভেতর ঢুকে মনে হলো, পুরো বাড়িই আসলে একটি ধোপাবাড়ি। বিভিন্ন হাসপাতালের কাপড় ধোয়া, শুকানো, ইস্ত্রি করে আবার তা হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে পুরো বাড়িতে।

এ ব্যবসার উদ্যোক্তা নমিতা দাস। তাঁর নামেই এ ব্যবসার নামকরণ করা হয়েছে নমি ওয়াশিং। ব্যবসার বয়স প্রায় ৩০ বছর হতে চলল। রাজধানীর দিলু রোডের ভাড়া বাড়িটিতে তার কেটে গেছে প্রায় ১২ থেকে ১৩ বছর। এর আগে মালিকের আরেকটি বাড়িতেই চলেছে এই ব্যবসা।

রহিমা খাতুন ১৩ বছর ধরে ধোপার কাজ করছেন। রাজধানীর অনেক হাসপাতাল থেকেই চুক্তিভিত্তিক কাপড় ধোয়ার কাজ করেন তিনি। ১১ ডিসেম্বর, হাতিরঝিল। ছবি: সাবরিনা ইয়াসমীন

রহিমা খাতুন ১৩ বছর ধরে ধোপার কাজ করছেন। রাজধানীর অনেক হাসপাতাল থেকেই চুক্তিভিত্তিক কাপড় ধোয়ার কাজ করেন তিনি। ১১ ডিসেম্বর, হাতিরঝিল। ছবি: সাবরিনা ইয়াসমীনকাপড় ধোয়া থেকে শুরু করে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নারী-পুরুষ মিলে ২৫ থেকে ৩০ জন শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করছেন। তবে কাপড় ধোয়া এবং চিপড়ে পানি বের করার কাজটি হচ্ছে মেশিনে।

নমিতা দাস জানালেন, এটি তাঁর পিতৃপুরুষের ব্যবসা। মা কমলা দাস নমিতা দাসের জন্মেরও আগে এ ব্যবসা শুরু করেন। এখন তিনি অসুস্থ হলেও বাড্ডায় ব্যবসাটি টিকে আছে। অন্যদিকে নমিতার বিয়ের পর তাঁর স্বামী মিলন দাস শাশুড়ির কাছ থেকে ব্যবসার খুঁটিনাটি শিখে স্বামী–স্ত্রী মিলে ব্যবসা শুরু করেন। এতে সাহায্য করছেন স্বামীর এক ভাই।

নমিতা জানালেন, শুরুতে শ্রমিকেরা হাতেই কাপড় ধুতেন। ব্যবসা বড় হয়েছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ধোপাবাড়িতে যোগ হয়েছে তিনটি বড় বড় ওয়াশিং মেশিন এবং দুটি হাইড্রো মেশিন। ওয়াশিং মেশিনের একেকটিতে একসঙ্গে দেড় শর বেশি কাপড় ধোয়া যায়।
এক ভাই আর তিন বোনের মধ্যে শুধু নমিতাই মায়ের ব্যবসা নিজের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। অন্যরা এতে আগ্রহী হননি। এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করা নমিতা বলেন, ‘মায়ের পেটে আমার বয়স যখন মাত্র তিন মাস, তখন বাবা মারা যান। এই কাপড় ধোয়ার ব্যবসা করেই মা আমাদের মানুষ করেছেন। আমার মা যুদ্ধজয়ী মা, অনেক কষ্ট করেছেন তিনি। আর আমরাও এ ব্যবসা করেই ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করাচ্ছি। এক মেয়ে এমবিএ করছে, আরেক ছেলে ইংলিশে অনার্স করছে। তাই এ ব্যবসাকে প্রণাম জানাই।’

তবে ব্যবসাটি আর কত দিন করতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথাও জানালেন নমিতা দাস। তিনি জানালেন, অনেকেই রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় হাসপাতালের কাপড় ধোয়ার ব্যবসা করছেন। টেন্ডার দিয়ে কাজ পেতে হয়। টেন্ডারের নানান চ্যালেঞ্জ পোহাতে হয়। বর্তমানে অনেক হাসপাতালের নিজস্ব ওয়াশিং প্ল্যান্ট আছে। এ ছাড়া ছেলেমেয়ে পড়াশোনা শেষ করে এ ব্যবসায় আসতে আগ্রহী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here