ধানের শীষের প্রার্থীকে নিয়ে দোটানায় কর্মীরা

0
70
মো. ফরিদুজ্জামান

নড়াইল-২ (সদরের একাংশ-লোহাগড়া) আসনে ২০-দলীয় জোটের প্রার্থী ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান মো. ফরিদুজ্জামানের নির্বাচনী প্রচারণায় নেই জেলা বিএনপির একাংশ। এই অংশের অসহযোগিতার কারণে বিপাকে পড়েছেন জোটের প্রার্থী। এ অবস্থায় জোটের প্রার্থীকে নিয়ে দোটানায় পড়েছেন অনেকে। তাঁদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাশরাফি বিন মুর্তজা নৌকার পাশাপাশি ধানের শীষের ভোটও কাটবেন। এতে সুবিধায় থাকবেন তিনি।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, এ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনিরুল ইসলামকে মনোনয়ন না দিয়ে জোট রক্ষার্থে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। নামসর্বস্ব দলকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়ায় বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ। জেলায় ফরিদুজ্জামানের দলের তেমন কোনো অবস্থান নেই।

সূত্রগুলো জানায়, সাবেক সাংসদ ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের শিকদার, বর্তমান কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও নড়াইল পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. জুলফিকার আলী মণ্ডল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী হাসান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহাবুব মোর্শেদসহ তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কমীরা ফরিদুজ্জামানের পক্ষে গণসংযোগ করছেন না।

গত তিন দিন নির্বাচনী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সদর উপজেলার আটটি ইউনিয়নসহ নির্বাচনী এলাকার গ্রামগঞ্জে কোথাও ধানের শীষের পোস্টার নেই। সদর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের তৃণমূলের অন্তত ৪০ জন নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০-দলীয় জোট প্রার্থীর চেহারাও তাঁরা দেখতে পাননি। প্রচারণার কাজে এ এলাকায় মাইকের ব্যবহারও শুনতে পাননি।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘হামলা–মামলা মাথায় নিয়ে যতটুকু কাজ করার দরকার, ততটুকু করছি। তবে জোটের প্রার্থী বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন না।’

জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জুলফিকার আলী মণ্ডল বলেন, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে সদর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জোট প্রার্থীর পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তিনি নির্বাচন পরিচালনার জন্য কোনো সহযোগিতাই করেননি। ফলে নেতা-কর্মীরা তাঁর প্রতি ক্ষুব্ধ।

জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি নিজে নড়াইল-১ আসনের প্রার্থী। দলের বেশির ভাগ নেতা-কর্মী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু যাঁরা এলাকায় আছেন, জোট প্রার্থী তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগসহ মূল্যায়নও করছেন না বলে জেনেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজে প্রার্থী হলেও তিনি (ফরিদুজ্জামান) আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন না।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ২০-দলীয় জোটের প্রার্থী ফরিদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণার কাজ যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’ তাঁর দাবি, নির্বাচনী এলাকায় তাঁর পোস্টার রাতের আঁধারে কে বা কারা ছিঁড়ে ফেলছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণায় বের হলে কিছু ছেলে মাইক ব্যবহার করতে বাধা দিচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মাশরাফি বাংলাদেশের গর্ব। আমিও তাঁর ভক্ত। তবে তাঁর একটি দলের হয়ে নির্বাচন করা ঠিক হয়নি। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে কি না, সন্দেহ আছে। কারণ এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হয়নি। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।’

ফরিদুজ্জামানের বাড়ি লোহাগড়া পৌরসভার কুন্দশী গ্রামে। একসময় তিনি জাতীয় পার্টির(এরশাদ) নড়াইল জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৭ সালে জাপা ছেড়ে দিয়ে নিজেই ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) দল গঠন করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০-দলীয় জোটে যোগ দিয়ে নড়াইল-২ আসনে জোটের প্রার্থী হন। নবম সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে (আম প্রতীকে) অংশ নিয়ে মাত্র ২৯২ ভোট পেয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এস কে আবু বাকের ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৫৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here