তফসিল ঘোষণা: মত-ভিন্নমত

0
135

একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে উদ্ভূত রাজনৈতিক সংকট এবং তা নিরসনে চলমান সংলাপের মধ্যেই তড়িঘড়ি করে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল (৮ নভেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে আগামী ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।

তফসিল ঘোষণার পরপরই এর পক্ষে-বিপক্ষে দ্য ডেইলি স্টারের কাছে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, “আমাদের অনুরোধ সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণা করে দেওয়াটা খুবই দুঃখজনক। আমরা এতে সন্তুষ্ট নই। আমরা নির্বাচনে অংশ নিতে চাই, কিন্তু তফসিল ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কি হবে তা এখনই বলতে পারছি না। পরবর্তীতে এ ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।”

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, “নির্বাচনকে ঘিরে উদ্ভূত রাজনৈতিক সংকট নিরসনে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত আমরা তফসিল ঘোষণা না করতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু, নির্বাচন কমিশন আমাদের অনুরোধ রাখেনি এবং এই সংকট নিরসনের সুযোগটিকে তারা সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ কেবল ক্ষতিকরই নয়, বরং মারাত্মক। তবে এখন পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধানের সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে পুনরায় তফসিল ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেছেন, “আমি জানি না, কেন নির্বাচন কমিশন এতো তড়িঘড়ি করে তফসিল ঘোষণা করেছে। ২৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য তাদের (নির্বাচন কমিশন) হাতে অনেক সময় রয়েছে। তাদের এই তাড়াহুড়োর পেছনে কী রহস্য লুকিয়ে আছে আমি ঠিক জানি না। সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই চলমান রাজনৈতিক সমস্যা সমাধান করা উচিত ছিল। কিন্তু, তা না করেই তফসিল ঘোষণা করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।”

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, “নির্বাচন কমিশন তাদের বিবেচনায় তফসিল ঘোষণা করেছে। কিন্তু, নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে দেওয়াটা নির্বাচন কমিশনের নৈতিক দায়িত্ব। রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার সাধ্যমতো চেষ্টা থাকা উচিত তাদের।”

এদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, “নির্বাচনী তফসিল ঘোষণাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আমরা আশা করি, সবগুলো রাজনৈতিক দল উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে যে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছিল, তফসিল ঘোষণার মধ্য দি‌য়ে তা কেটে গেছে। আগামী জাতীয় নির্বাচন তফসিল অনুযায়ীই হবে এবং এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।”

তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “তড়িঘড়ি করে নির্বাচন কমিশনের এই তফসিল ঘোষণার তীব্র নিন্দা করছি আমরা। একটি অমসৃণ নির্বাচনের জন্যই এসব করা হচ্ছে। তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে সরকারের ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটেছে। জনগণের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষার বাইরে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা তারা মানবে না। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করে তফসিল ঘোষণা পেছানোর দাবি জানালেও তাতে তারা কোনো কর্ণপাত করেনি।”

যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, “একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। কিন্তু, সার্বিক বিবেচনায় মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় অত্যন্ত কম মনে হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ, যাচাই-বাছাই, সাক্ষাৎকার গ্রহণ ইত্যাদি ব্যবস্থা গ্রহণ কঠিন হবে। এ জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের তারিখ এক সপ্তাহ পেছানোর আহ্বান জানাচ্ছি। নির্বাচনকালীন প্রতিটি পদক্ষেপ জনগণের ইচ্ছার ভিত্তিতে নেওয়া উচিত।”

জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার বলেছেন, “নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে আমরা স্বাগত জানাই। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার পরেই নির্বাচন কমিশন এই ঘোষণা দিয়েছে। নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষে হবে বলে সিইসির ভাষণ থেকে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। আমরা আশা করছি, সবগুলো রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেবে। নির্বাচনকে বিলম্ব করতেই তফসিল ঘোষণা পেছানোর দাবি করেছিল ঐক্যফ্রন্ট, যেটি সংবিধানসম্মত নয়।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here