জনগণের মুখোমুখি ৯ প্রার্থী

0
148
জনগণের মুখোমুখি ৯ প্রার্থী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের ৯ প্রার্থীকে জনতার মুখোমুখি করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। এ সময় সব প্রার্থী এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজেদের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের শপথ করেন। সব প্রার্থী সাবেক সাংসদদের কাজের প্রশংসা করেছেন।

গত রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে নবীনগর উপজেলা সমবায় সুপার মার্কেট চত্বরে ওই অনুষ্ঠান হয়। সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে বেসরকারি সংগঠন সুজন ‘জনগণের মুখোমুখি’ শিরোনামে এই অনুষ্ঠান করে।

এ আসনে বিভিন্ন দলের ১০ জন প্রার্থী নির্বাচন করছেন। তাঁদের মধ্যে জাতীয় পার্টির(এরশাদ) প্রার্থী কাজী মো. মামুনুর রশিদ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন। জনতার মুখোমুখি হওয়া ৯ প্রার্থী হলেন আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ এবাদুল করিম, বিএনপির কাজী নাজমুল হোসেন, জাসদের (ইনু) শাহ জিকরুল আহমেদ, ইসলামী ঐক্যজোটের মেহেদী হাসান, সিপিবির শাহিন খান, জাকের পার্টির রশিদ উল্লাহ, ইসলামী আন্দোলনের উসমান গণি, বিকল্পধারার তানভীর মনিরুল ইসলাম ও মুসলিম লীগের এ কে এম আশরাফুল ইসলাম। তাঁরা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন। জনগণের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। জনগণ রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক আন্তরিকতা ও এলাকার উন্নয়নের দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবাদুল করিম বলেন, ‘এলাকায় কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। নির্বাচিত হলে এলাকার গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন করব।’ তিনি আরও বলেন, এলাকার সামাজিক নিরাপত্তা, তরুণদের সঠিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নসহ অধিকসংখ্যক শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হবে।

ধানের শীষের প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন বলেন, এলাকায় সাবেক সাংসদেরা ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন। নির্বাচিত হলে এলাকার বিদেশগামী তরুণদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। উপস্থিত অন্য প্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সব দল মিলেমিশে কাজ করলে নবীনগরে উন্নয়ন হবে। নবীনগরে হিংসা, প্রতিহিংসার রাজনীতি কখনো ছিল না। আজ পর্যন্ত নেই। দিন শেষে আমরা এ মাটির সন্তান। আওয়ামী লীগ, জাসদ, জাপা মিলেমিশে কাজ করলে সুশৃঙ্খল রাজনীতি বজায় থাকবে।’ অনুষ্ঠানে তিনি সব প্রার্থীর আন্তরিকতা কামনা করেন। পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চান। মানুষ যেন অন্তত নিজের ভোটটি দিতে পারেন, এমন পরিবেশ তৈরির জন্য প্রশাসন ও সব প্রার্থীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সহযোগিতা চান।

জাসদের প্রার্থী শাহ জিকরুল আহমেদ সুজনের সব অঙ্গীকারের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা, ঋণখেলাপি, পরিবেশ ধ্বংসকারী, কালোটাকার মালিককে সমর্থন করব না।’ তিনি সবাইকে ভোটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সুজনের উপজেলা কমিটির সভাপতি আবু কামাল খন্দকার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সংগঠনটির আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আবদুল হালিম এটি সঞ্চালনা করেন। আরও বক্তব্য দেন জেলা সুজনের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম শিভলী, কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, উপজেলা সুজনের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান কল্লোল প্রমুখ।

এ কে এম শিভলী বলেন, প্রার্থীরা ২০টি অঙ্গীকারনামার সঙ্গে একমত হন। প্রার্থীরা হাতে হাত মিলিয়ে অঙ্গীকারনামা বাস্তবায়নের শপথ নেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here