ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ে উল্টো বিপদে বাংলাদেশ

0
173

প্রথম ইনিংসে ৭৮ রানের বড় লিডই পেয়েছিল বাংলাদেশ। তাতে চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনের গল্পটা হতে পারতো শুধুই বাংলাদেশের। তার উপর অভিষেকেই সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড করলেন নাঈম। কিন্তু শেষ বিকেলে ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ে উল্টো চাপে বাংলাদেশই। ৫৫ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো বিপদেই রয়েছে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় দিন শেষে ১৩৩ রানে এগিয়ে আছে টাইগাররা।

শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করতে থাকে টাইগাররা। সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুমিনুল হকের মতো ব্যাটসম্যানরাও উইকেট ছুড়ে এসেছেন। ফলে বড় লিড পাওয়া কঠিন হয়ে গেল টাইগারদের। তবে আশার কথা এখনও উইকেটে আছেন মুশফিকুর রহীম। ১১ রানে ব্যাট করছেন তিনি। তার সঙ্গী মেহেদী হাসান অবশ্য এখনও রানের খাতা খুলতে পারেননি এখনও।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: (দ্বিতীয় দিন শেষে)

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৩২৪ (৯২.৪ ওভার) (ইমরুল ৪৪, সৌম্য ০, মুমিনুল ব্যাটিং ১২০, মিঠুন ২০, সাকিব ৩৪, মুশফিক ৪, মাহমুদউল্লাহ ৩, মিরাজ ২২, নাঈম ২৬, তাইজুল ৩৯*, মোস্তাফিজ ২; রোচ ১/৬৩, গ্যাব্রিয়েল ৪/৭০, চেজ ০/৪২, ওয়ারিক্যান ৪/৬২, বিশু ১/৬০, ব্র্যাথয়েট ০/১৯)

দ্বিতীয় ইনিংস:  ৫৫/৫ (১৭ ওভার) ( ইমরুল ২, সৌম্য ১১, মুমিনুল ১২, মিঠুন ১৭, সাকিব ১, মুশফিক  ব্যাটিং ১১,  মিরাজ ব্যাটিং ০; রোচ ০/১১, ওয়ারিক্যান ২/২২, চেজ ২/১৬, বিশু ১/৫)।

উইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ২৪৬/১০ (৬৪ ওভার) (ব্র্যাথওয়েট ১৩, পাওয়েল ১৪, হোপ ১, আমব্রিস ১৯, চেজ ৩১, হেটমায়ার ৬৩, ডওরিচ ৬৩*, বিশু ৭, রোচ ২, ওয়ারিক্যান ১২, গ্যাব্রিয়েল ৬; মোস্তাফিজ ০/৪, মিরাজ ১/৬৭, তাইজুল ১/৫১, সাকিব ৩/৪৩, নাঈম ৫/৬১, মাহমুদউল্লাহ ০/৭)।

মিঠুনকে ফেরালেন বিশু

বাংলাদেশের বিপদ ক্রমেই বড় হচ্ছে। আউট হয়ে গেছেন মোহাম্মদ মিঠুনও। কিছুটা দুর্ভাগা ছিলেন তিনি। দেবেন্দ্র বিশুর বলটি রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে চেয়েছিলেন মিঠুন। কিন্তু ব্যাটের কানায় লেগে প্যাডে লেগে বোল্ড হয়ে যান এ ব্যাটসম্যান। ৩৫ বলে ১৭ রান করেছেন মিঠুন।

উইকেট ছুড়ে এলেন সাকিব

তোপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান সাজঘরে। তাও মাত্র ৩২ রানেই। এ সময়ে উইকেটে নেমে উচ্চ বিলাসী শট খেলতে গেলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে মিডউইকেটে ধরা পড়েন শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের হাতে। ২ বলে ১ রান করেছেন অধিনায়ক।

৮ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৩৫ রান। ৮ রান নিয়ে ব্যাট করছেন মোহাম্মদ মিঠুন। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমেছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীম।

টিকতে পারলেন না মুমিনুলও

১৩ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশ তাকিয়ে ছিল আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান মুমিনুল হকের দিকে। তবে হতাশ করেছেন তিনি। রোস্টন চেজের বলে লেগে ঘোরাতে গিয়ে লাইন মিস করে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েছেন এ ব্যাটসম্যান। ফলে শুরুতেই চাপে পড়েছে টাইগাররা। ১১ বলে ২টি চারের সাহায্যে ১২ রান করেছেন মুমিনুল।

৭ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩২ রান, মোহাম্মদ মিঠুন ৬ রানে ব্যাট করছেন। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমেছেন সাকিব আল হাসান।

ইমরুলের পর আউট সৌম্যও

ঠিক কি করতে গিয়েছিলেন সৌম্য সরকার নিজেও হয়তো বলতে পারবেন না। রোস্টন চেজের বলে আক্রমণাত্মক মেজাজেই ব্যাট করতে গিয়েছিলেন এ ওপেনার। কিন্তু ব্যাটের কানায় লেগে ধরা পড়েন স্লিপে দাঁড়ানো ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটের হাতে। ১০ বলে ২টি চারের সাহায্যে ১১ রান করেছেন সৌম্য।

৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১৩ রান। উইকেটে আছেন মুমিনুল হক ও মোহাম্মদ মিঠুন।

শুরুতেই ইমরুলের বিদায়

প্রথম ইনিংসে দুই দুইবার জীবন পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি ইমরুল। আর দ্বিতীয় দ্বিতীয় ইনিংসে ফিরলেন শুরুতেই। জোমেল ওয়ারিক্যান্সের বলে জায়গায় দাঁড়িয়ে ড্রাইভ করতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বলের বলের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে বোল্ড হয়ে যান এ ওপেনার। ৫ বলে খেলে ২ রান করেছেন ইমরুল।

২ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১৩ রান। ১১ রান নিয়ে ব্যাট করছেন সৌম্য সরকার। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমেছেন আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান মুমিনুল হক।

প্রথম ইনিংসে ৭৮ রানের লিড বাংলাদেশের

অভিষেকেই দুর্দান্ত নাঈম হাসান। অষ্টম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে অভিষেকে পাঁচ উইকেট নেওয়ার দিনে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন এ স্পিনার। অভিষেকে সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে নিলে পাঁচ উইকেট। দারুণ বোলিং করেছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও। ফলে প্রথম ইনিংসে ৭৮ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।

শেষ উইকেট হিসেবে শ্যানন গ্যাব্রিয়েলকে তুলে নেন সাকিব। তবে একপ্রান্তে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান শেন ডরউইচ। হার না মানা ৬৩ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। দারুণ ব্যাট করেছিলেন শিমরন হ্যাটমায়ারও। তিনিও করেছেন ৬৩ রান। তাতেই প্রথম ইনিংসে ২৪৬ রান করতে পেরেছে সফরকারীরা।

বাংলাদেশের পক্ষে ৬১ রানের খরচায় ৫টি উইকেট নিয়েছেন নাঈম। ৪৩ রানে ৩টি উইকেট পেয়েছেন সাকিব। এছাড়া তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৩২৪ (৯২.৪ ওভার) (ইমরুল ৪৪, সৌম্য ০, মুমিনুল ব্যাটিং ১২০, মিঠুন ২০, সাকিব ৩৪, মুশফিক ৪, মাহমুদউল্লাহ ৩, মিরাজ ২২, নাঈম ২৬, তাইজুল ৩৯*, মোস্তাফিজ ২; রোচ ১/৬৩, গ্যাব্রিয়েল ৪/৭০, চেজ ০/৪২, ওয়ারিক্যান ৪/৬২, বিশু ১/৬০, ব্র্যাথয়েট ০/১৯)

উইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ২৪৬/১০ (৬৪ ওভার) (ব্র্যাথওয়েট ১৩, পাওয়েল ১৪, হোপ ১, আমব্রিস ১৯, চেজ ৩১, হেটমায়ার ৬৩, ডওরিচ ৬৩*, বিশু ৭, রোচ ২, ওয়ারিক্যান ১২, গ্যাব্রিয়েল ৬; মোস্তাফিজ ০/৪, মিরাজ ১/৬৭, তাইজুল ১/৫১, সাকিব ৩/৪৩, নাঈম ৫/৬১, মাহমুদউল্লাহ ০/৭)।

নাঈমের বিশ্বরেকর্ড

অভিষেকে সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরির রেকর্ডটা অনেক দিন থেকেই ধরে রেখেছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। এবার সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে পাঁচ উইকেট শিকার রেকর্ডটা করলেন নাঈম হাসান। জোমেল ওয়ারিক্যানকে বোল্ড করে নিজের পঞ্চম শিকার করেন নাঈম। ২৬ বলে ১২ রান করেছেন ওয়ারিক্যান।

১৭ বছর ৩৫৫ দিন বয়সে এ রেকর্ড গড়লেন নাঈম। এর আগে ১৮ বছর ১৯৩ দিন বয়সে এ রেকর্ডটি গড়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্স। অভিষেকে বাংলাদেশের অষ্টম বোলার হিসেবে পাঁচ উইকেট নিলেন নাঈম।

৬১ ওভার শেষে উইন্ডিজের সংগ্রহ ৯ উইকেটে ২২৫ রান। ৪৮ রানে ব্যাট করছেন শেন ডরউইচ। শেষ ব্যাটসম্যান শ্যানন গ্যাব্রিয়েল মাঠে নেমেছেন।

রোচকেও ফেরালেন নাঈম

সাকিবের পর একই ওভারে জোড়া উইকেট পেলেন অভিষিক্ত নাঈম হাসানও। ৫৩তম ওভারের তৃতীয় বলে দেবেন্দ্র বিশুকে আউট করার পর শেষ আউট করেছেন কেমার রোচকে। তাকে এলবিডব্লিউ ফাঁদে ফেলেছেন এ অফি। ৩ বল খেলে কোন রান করতে পারেননি রোচ।

৫৩ ওভার শেষে উইন্ডিজের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২০৫ রান। ৪৩ রানে ব্যাট করছেন শেন ডরউইচ। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমেছেন জোমেল ওয়ারিক্যান।

বিশুকে ফেরালেন নাঈম

দেবেন্দ্র বিশুকে ফিরিয়েছেন অভিষিক্ত নাঈম হাসান। দারুণ এক ডেলিভারিতে সুইপ করতে গিয়ে লাইন মিস করে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েছেন বিশু। আউট হওয়ার আগে ১৫ বলে ৭ রান করেছেন এ ক্যারিবিয়ান।

দ্বিতীয় সেশনেও টাইগারদের শিকার তিন উইকেট

প্রথম সেশনের মতো দ্বিতীয় সেশনেও তিন উইকেট তুলে নিয়েছে টাইগাররা। তবে এ সেশনে দারুণ এক জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়েছিলেন শেন ডরউইচ ও শিমরন হ্যাটমায়ার। তবে সে জুটি ভেঙেছে বাংলাদেশ। চা বিরতির আগে ৫০ ওভার ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৮৭ রান তুলেছেন উইন্ডিজ। ডরউইচ ৩৫ এবং দেবেন্দ্র বিশু ২ রানে ব্যাট করছেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: (দ্বিতীয় দিনের চা-বিরতি পর্যন্ত)

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৩২৪ (৯২.৪ ওভার) (ইমরুল ৪৪, সৌম্য ০, মুমিনুল ব্যাটিং ১২০, মিঠুন ২০, সাকিব ৩৪, মুশফিক ৪, মাহমুদউল্লাহ ৩, মিরাজ ২২, নাঈম ২৬, তাইজুল ৩৯*, মোস্তাফিজ ২; রোচ ১/৬৩, গ্যাব্রিয়েল ৪/৭০, চেজ ০/৪২, ওয়ারিক্যান ৪/৬২, বিশু ১/৬০, ব্র্যাথয়েট ০/১৯)।

উইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ১৮৭/৬ (৫০ ওভার) (ব্র্যাথওয়েট ১৩, পাওয়েল ১৪, হোপ ১, আমব্রিস ১৯,  চেজ ৩১, হেটমায়ার ৬৩, ডওরিচ ব্যাটিং ৩৫, বিশু ব্যাটিং ২; মোস্তাফিজ ০/৪, মিরাজ ১/৫২, তাইজুল ১/৪৪, সাকিব ২/৩৬, নাঈম ২/৩৭, মাহমুদউল্লাহ ০/৭)।

হ্যাটমায়ারকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙলেন মিরাজ

চাপে পড়া উইন্ডিজের ইনিংস শেন ডরউইচকে নিয়ে মেরামত করছিলেন শিমরন হ্যাটমায়ার। ৯২ রানের জুটিও গড়েছেন এ দুই ব্যাটসম্যান। তবে টাইগারদের বড় ক্ষতি করার আগে তাকে ফিরিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহীমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট করে ৪৭ বলে ৬৩ রান করেছেন হ্যাটমায়ার।

৪৬ ওভার শেষে উইন্ডিজের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৮০ রান। ৩০ রান নিয়ে ব্যাট করছেন ডরউইচ। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমেছেন দেবেন্দ্র বিশু।

হ্যাটমায়ার-ডরউইচ জুটিতে পঞ্চাশ

৮৮ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান শেন ডরউইচকে নিয়ে দলের হাল ধরেছেন শিমরন হ্যাটমায়ার। এর মধ্যেই ৫০ রানের জুটি এসেছে তাদের ব্যাট থেকে। মাত্র ৫০ বলেই এসেছে এ জুটির অর্ধশত। তাতে হ্যাটমায়ারের অববান ৩৯ রান।

৪১ ওভার শেষে উইন্ডিজের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১৪২ রান। হ্যাটমায়ার উইকেটে আছেন ৪৬ রানে। ১৪ রান নিয়ে তার সঙ্গে ব্যাট করছেন ডরউইচ।

আমব্রিসকেও ফেরালেন নাঈম

দুর্দান্ত বোলিং করে চলেছেন নাঈম হাসান। দারুণ এক ডেলিভারিতে ফিরিয়েছেন সুনীল আমব্রিসকে। রক্ষণাত্মক ঢঙ্গে খেলতে গেলে লাইন মিস করলে বল প্যাডে লাগে আমব্রিসের। ফলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন। রিভিউ নিয়েছিলেন আমব্রিস। কিন্তু আম্পায়ার্স কলে সাজঘরে ফিরতে হয় এ ক্যারিবিয়ানকে। ৬৯ বলে ১৯ রান করেছেন এ ব্যাটসম্যান।

৩২ ওভার শেষে উইন্ডিজের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৯০ রান। ৭ রানে ব্যাট করছেন শিমরন হ্যাটমায়ার। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমেছেন শেন ডরউইচ।

নাঈমের প্রথম উইকেট

দারুণ ব্যাটিংয়ের পর বোলিংটাও দারুণ করছেন অভিষিক্ত নাঈম হাসান। ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেট তুলে নিয়ে উইন্ডিজ শিবিরে চতুর্থ আঘাত হেনেছেন এ অফি। তার বলে রক্ষণাত্মক ঢঙে খেলতে চেয়েছিলেন রোস্টন চেজ। ব্যাটের কানায় লেগে চলে শর্ট লেগে দাঁড়ানো ইমরুল কায়েসের হাতে। ৪৩ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ৩১ রান করেছেন চেজ।

তবে অভিষেক উইকেটটি আরও আগেই পেতেই পারতেন নাঈম। বল ধরে সঙ্গে সঙ্গে উইকেট ভাঙতে পারলে সুনীল আমব্রিসের উইকেটটিও পেতেন এ স্পিনার।

৩০ ওভার শেষে উইন্ডিজের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৮১ রান। ১৬ রান নিয়ে ব্যাট করছেন আমব্রিস। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেটে নেমেছেন শিমরন হ্যাটমায়ার।

প্রথম সেশনে উইন্ডিজের তিন উইকেট তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ  

বল হাতে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনটা দারুণ কেটেছে বাংলাদেশের। তিন উইকেট তুলে নিয়েছে টাইগাররা। বল হাতে নিয়ে প্রথম ওভারেই জোড়া আঘাত করেছেন ইনজুরি থেকে ফেরা অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। অপরটি পেয়েছেন তাইজুল ইসলাম। ফলে শুরুতেই ব্যাকফুটে সফরকারীরা। উইকেট পেতে পারতো আরও। বেশ কিছু সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন টাইগাররা।

লাঞ্চের আগে ১৯ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ৫৪ রান করেছে উইন্ডিজ। রোস্টন চেজ ১৯ এবং সুনীল আমব্রিস ৫ রানে ব্যাট করছেন। ২৭০ রানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: (দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চ পর্যন্ত)

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৩২৪ (৯২.৪ ওভার) (ইমরুল ৪৪, সৌম্য ০, মুমিনুল ব্যাটিং ১২০, মিঠুন ২০, সাকিব ৩৪, মুশফিক ৪, মাহমুদউল্লাহ ৩, মিরাজ ২২, নাঈম ২৬, তাইজুল ৩৯*, মোস্তাফিজ ২; রোচ ১/৬৩, গ্যাব্রিয়েল ৪/৭০, চেজ ০/৪২, ওয়ারিক্যান ৪/৬২, বিশু ১/৬০, ব্র্যাথয়েট ০/১৯)।

উইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ৫৩/৩ (১৯ ওভার) (ব্র্যাথওয়েট ১৩, পাওয়েল ১৪, হোপ ১, আম্রিস ব্যাটিং ৫*, চেজ ব্যাটিং ১৯*; মোস্তাফিজ ০/৪, মিরাজ ০/২৭, তাইজুল ১/১২, সাকিব ২/১১)।

ব্র্যাথওয়েটও আউট সাকিব ঘূর্ণিতে

শুরুতেই উইন্ডিজকে চেপে ধরেছে বাংলাদেশ। আর তার নেতৃত্ব সামনে থেকেই দিচ্ছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। হোপকে আউট করার তিন বল পর আউট করেছেন ক্রেইগ  ব্র্যাথওয়েটকে। রক্ষণাত্মক ঢঙেই খেলতে চেয়েছিলেন এ ক্যারিবিয়ান। কিন্তু ব্যাটের কানা ছুঁয়ে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহীমের হাতে গেলে তিনি মিস করেন। কিন্তু তার হাতে লেগে চলে যায় স্লিপে দাঁড়ানো সৌম্য সরকারের হাতে। ৪৭ বল মোকাবেলা করে ১৩ রান করেছেন এ ওপেনার।

১২ ওভার শেষে উইন্ডিজের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩১ রান।  উইকেটে আছেন রোস্টন চেজ ও সুনীল আমব্রিস।

প্রথম বলেই হোপকে ফেরালেন সাকিব

ইনজুরি কাটিয়ে লম্বা সময় পর জাতীয় দলে ফিরেছেন। তবে ফিরেছেন আগের ছন্দ নিয়েই। বল হাতে নিয়ে সাফল্য পেলেন তিনি। প্রথম বলেই দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেছেন শাই হোপকে। ৪ বলে ১ রান করেছেন এ ব্যাটসম্যান।

পাওয়েলকে ফেরালেন তাইজুল

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক সিরিজ শেষে উইন্ডিজের বিপক্ষেও শুরুটা দারুণ করলেন তাইজুল ইসলাম। উইন্ডিজ শিবিরে প্রথম আঘাত হেনেছেন এ বাঁহাতি। কাইরন পাওয়েলকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফিরিয়েছেন তিনি। রিভিউ নিয়েছিলেন পাওয়েল। তবে লাভ হয়নি। ২০ বলে ১৪ রান করেছেন তিনি।

উইন্ডিজের সংগ্রহ ১১ ওভারে ১ উইকেটে ৩০ রান। ১৩ রানে ব্যাট করছেন ক্রেইগ ব্রেথওয়েট। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে নেমেছেন শাই হোপ।

প্রথম ইনিংসে ৩২৪ রান করেছে বাংলাদেশ

কাজটা তাদের বোলিং। কিন্তু ব্যাটিংটা টুকাটাক যে ভালোই করতে পারেন তারা। তবে উইন্ডিজের বিপক্ষে এদিন অনেকটা স্বীকৃত ব্যাটসম্যানের মতোই ব্যাট করলেন তাইজুল ইসলাম ও নাঈম ইসলাম। ফলে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩২৪ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ।

আগের দিন দুইবার রিভিউতে জীবন পাওয়া তাইজুল ইসলাম অপরাজিত থেকেই মাঠ ছেড়েছেন। ৬৮ বলে ৩৯ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। ৪টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে এ রান করেছেন তিনি। নাঈমের সংগ্রহ ২৬ রান।

শেষ উইকেট হিসেবে আউট হয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। ওয়ারিক্যানের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিনি। রিভিউ নিয়েছিলেন লাভ হয়নি। অবশ্য দুই বল আগেই সফল রিভিউতে জীবন পেয়েছিলে তিনি। উইন্ডিজের পক্ষে শ্যানন গ্যাব্রিয়েল ও জোমেল ওয়ারিক্যান ৪টি করে উইকেট নিয়েছেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৩২৪ (৯২.৪ ওভার) (ইমরুল ৪৪, সৌম্য ০, মুমিনুল ব্যাটিং ১২০, মিঠুন ২০, সাকিব ৩৪, মুশফিক ৪, মাহমুদউল্লাহ ৩, মিরাজ ২২, নাঈম ২৬, তাইজুল ৩৯*, মোস্তাফিজ ২; রোচ ১/৬৩, গ্যাব্রিয়েল ৪/৭০, চেজ ০/৪২, ওয়ারিক্যান ৪/৬২, বিশু ১/৬০, ব্র্যাথয়েট ০/১৯)।

নাঈমের বিদায়ে ভাঙল জুটি

অফস্পিনার হিসেবে দলে অন্তর্ভুক্তি হলেও ব্যাটিংটা যে ভালোই পারেন তা অভিষেকের জানান দিয়ে দিলেন নাঈম হাসান। তাইজুল ইসলামের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ৬৫ রানের জুটি গড়েছেন এ ব্যাটসম্যান। তবে তাকে ফিরিয়েছে উইন্ডিজ। স্পিনার এনেই সাফল্য পায় দলটি। স্লিপে শাই হোপের তালুবন্দি করেন জোমেল ওয়ারিক্যান। ২৬ রান করেছেন এ ব্যাটসম্যান।

প্রথম দিন শেষে সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৩১৫/৮ (৮৮ ওভার) (ইমরুল ৪৪, সৌম্য ০, মুমিনুল ১২০, মিঠুন ২০, সাকিব ৩৪, মুশফিক ৪, মাহমুদউল্লাহ ৩, মিরাজ ২২, নাঈম ২৪*, তাইজুল ৩২*; রোচ ১/৫৫, গ্যাব্রিয়েল ৪/৬৯, চেজ ০/৪২, ওয়ারিক্যান ২/৬২, বিশু ১/৬০, ব্র্যাথয়েট ০/১৯)।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here