চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫-এর জন্য আবারো অবস্থান কর্মসূচি

0
229
চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫-এর জন্য আবারো অবস্থান কর্মসূচি

ছবিঃ ইত্তেফাক
পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আজ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ করার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ৪০তম বিসিএস পরীক্ষার আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পূর্বে দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষে এ অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। উল্লেখ্য, গত ২৭ জুন, ১০ সেপ্টেম্বর ও সর্বশেষ গত ১১ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী  কমিটি চাকরির জন্য আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ করার জন্য সুপারিশ করে।
ঢাকার শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে সকাল ১১ঘটিকায় উপস্থিত হয়ে কর্মসূচি শুরু করতে গেলে পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয় সেখানকার আন্দোলকারীরা। এমতাবস্থায়, সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল শাহবাগ থানার কমকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কর্মকর্তারা জানায়, শারদীয় দূর্গা উৎসবের কারণে শাহবাগ ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোন কর্মসূচি করা যাবে না। অতঃপর, থানার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কর্মসূচি পালনের অনুমতি লাভের পর আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচিটি শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের পরিবর্তে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দুপুর ১টা থেকে শুরু করে। তাদের এই অবস্থান কর্মসূচি আজ এবং আগামী কাল অর্থাৎ ১৯ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। ২০ অক্টোবর থেকে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের  সামনে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলবে।
উল্লেখ্য, চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে ন্যূনতম ৩৫ বছর করার প্রস্তাব করেন বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি এ্যডভোকেট আব্দুল হামিদ চৌধুরী মহান জাতীয় সংসদে স্পিকার থাকাকালীন অবস্থায় ২০১২ সালের ৩১ জানুয়ারি। সেই ২০১২ সাল থেকে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ন্যূনতম ৩৫ বছরে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছে সংগঠনটি। দাবিটি একাধিকবার মহান জাতীয় সংসদে বিভিন্ন সংসদ সদস্য দ্বারা উথাপিত হয়েছে। এদের মধ্যে ছিলেন বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ, বেগম খোরশেদ আরা হক, মঈন উদ্দীন খান বাদল,  রুস্তম আলি ফরাজি প্রমুখ।
গত ২৭ জুন, ১০ সেপ্টেম্বর ও সর্বশেষ গত ১১ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বছরে উন্নীত করার সুপারিশ করে। সংগঠনটি এই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে অহিংস পদ্ধতিতে মানববন্ধন, র‍্যালি, প্রতীকি প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, সমাবেশ ও অনশন করেছে।
অনেকে বলছেন বর্তমানে দেশে সেশনজট নেই, কিন্তু পূর্ববর্তী সেশনজটের শিকার এই ছাত্র ছাত্রীরা তাদের হারিয়ে যাওয়া সেই বছরগুলো ফেরত চান। কেননা, এই হারিয়ে যাওয়া বছর গুলোর দ্বায়ভার রাষ্ট্রের ওপরই বর্তায়। আন্দোলনটি ২০১২ সাল থেকে চলছে এবং একাধিকবার বিভিন্ন মহল থেকে বয়স বাড়ার কথা বলা হলেও তা এখনো বাস্তবতার মুখ দেখেনি। যেখানে গত ছয় বছরে বয়সসীমা বাড়েনি, সেখানে অনেকেই বলছেন নির্বাচনের পর বয়সসীমা বাড়বে। এই রকম আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা বিশ্বাস রাখতে পারছে না। তাই, এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here