আমরা ষড়যন্ত্রে বিশ্বাস করি না, করছি না, পড়িওনি: মাহমুদুর রহমান মান্না

0
265

মাহমুদুর রহমান মান্না প্রখ্যাত ছাত্রনেতা, ডাকসুর সাবেক ভিপি। যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে। বেরিয়ে এসে গড়ে তুলেছেন ‘নাগরিক ঐক্য’। সদ্য গঠিত ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’র অন্যতম নেতা। নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট নেতা মান্না কথা বলেছেন দ্য ডেইলি স্টার অনলাইনের সঙ্গে।

আপনারা একটা জোট করলেনকিন্তু সেখানে শুরুতেই অনৈক্য দেখা দিলো।বিকল্প ধারা আসলো নাঐক্য প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ কী?

মাহমুদুর রহমান মান্না: আমার মনে হয় না জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় কোনো অনৈক্য বা ভাঙন দেখা দিয়েছে। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া গতকাল পরিবর্তিত হয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট হয়েছে। আমরা যারা যারা এই বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম, তাদের মধ্য থেকে একটি দল সরে গেছে। এটা দুঃখজনক। কিন্তু এটা আমাদের যাত্রাপথে কোনো বিভেদ তৈরি করবে বলে আমি মনে করি না।

যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান বি. চৌধুরী বলেছেন, ড. কামাল হোসেন তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমুলক আচরণ করেছেন। কিন্তু এ বিষয়টিকে ধরে রেখে একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলাকে আমি যৌক্তিক মনে করি না। পরে আবার তারা সংবাদ সম্মেলন করে দুটি বিষয়ের কথা বলেছেন। ভারসাম্যের বিষয়টি আমাদের লক্ষ্যের মধ্যে আছে। কিন্তু আমরা চেয়েছিলাম এ নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্তে আসতে এবং সেটা সম্ভব ছিল।

জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কি?

মাহমুদুর রহমান মান্না: জামায়াতের যে ইস্যুটি যুক্তফ্রন্টের নেতারা তুলেছেন, এটার প্রয়োজন ছিল না। কারণ জামায়াতের সঙ্গে আমরা ঐক্য করছি না। নীতিগতভাবেই এটি আমাদের অবস্থান।

আমরা বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করেছি। এখন দেখা যাচ্ছে বিএনপির সঙ্গে ২০ দলীয় জোটে জামায়াতে ইসলামী রয়েছে। যদি সেই জোট থেকে জামায়াতকে বেরও করে দেওয়া হয়, তারপরও তারা যুগপৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারবে। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন তারা করেছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি যদি বিবেচনায় ধরি তাহলে যেহেতু জামায়াতের নিবন্ধন নেই ফলে তারা দলগত নির্বাচন করতে পারছে না। জামায়াত এই আন্দোলনের পক্ষে সবচেয়ে বড় বাধা কী করে হয়? সুতরাং জামায়াতের কথা বলে ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো মানেই হয় না।

যদি যুক্তফ্রন্ট এটা উপলব্ধি করে, ফিরে আসতে চায়, তাহলে তাদের জন্য দরজা খোলাই আছে। যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গেই তারা প্রত্যাবর্তন করতে পারবে।

বিকল্প ধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরীর সঙ্গে আপনার একটি কথোপকথন ফাঁস হয়েছে। সেখানে মাহী বলছেন,আপনারা দেশ বিরোধী বৃহৎ ষড়যন্ত্রে পড়ে যাচ্ছেন। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

মাহমুদুর রহমান মান্না: এ ব্যাপারে আমি কী বলবো, এটা মাহী বলবে। আমরা ষড়যন্ত্রে বিশ্বাস করি না, ষড়যন্ত্র করছি না, পড়িওনি। আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন চাচ্ছি। সেক্ষেত্রে আমাদের পাঁচটি দাবি আছে। এটি ষড়যন্ত্রের কোনো বিষয় নয়। ষড়যন্ত্র তারা করে, যারা গোপনে অথবা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে। আমরা সে পথে হাঁটছি না। আমরা আন্দোলনের পথে আছি।

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে কি করতে চান?

মাহমুদুর রহমান মান্না: একটি অংশগ্রহণমূলক এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি। যাতে এর মাধ্যমে সরকারের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করতে পারি এবং সরকার আমাদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। যতখানি সাফল্য অর্জন করতে পারব সেই ফসল নিয়েই আমরা নির্বাচনে যাব। আমরা বারবার বলে আসছি যে, মানুষের পক্ষে থাকার জন্যই এ আন্দোলন। আমরা একদিনের ভোটের জন্য লড়াই করছি না। বছরের প্রতিটি দিন যেন গণতন্ত্র থাকে এবং মানুষের বাঁচা-মরার প্রশ্নে যেন ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

মানবিক, কল্যাণকর ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা আমাদের লক্ষ্য। আমি মনে করি যে, জনগণ এটা বুঝবে। জনগণের সবচেয়ে বড় শক্তি ভোট। কিন্তু এই ভোট থেকেই তারা বঞ্চিত। তারা যখন বুঝবে যে, এই ভোটের অধিকার মানেই ক্ষমতার লড়াই না, ভাগ্য এবং সমাজ বদলাবার লড়াই, তখন তারা নিশ্চয়ই আমাদের পক্ষে রায় দেবে। নির্বাচনে জয়ের জন্য এটা খুব ভালো ফল দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

১/১১র কুশীলবরা আবার ষড়যন্ত্র করছে। তাদের মধ্যে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনও রয়েছেন বলে অভিযোগ করছে আওয়ামী লীগ। আপনার কী মনে হয়?

মাহমুদুর রহমান মান্না: তাদের কাছে যদি প্রমাণ থাকে তবে মামলা দিক, বিচার করুক। শুধু ষড়যন্ত্রের বুলি আওড়ালেই তো চলবে না। ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন আমাদের ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত নন। নিজের আগ্রহে তিনি আমাদের দু-একটি প্রোগ্রামে এসেছেন। তিনি যদি ১/১১’র কোনো কুশীলব হয়েও থাকেন, এখানকার কোনো কুশীলব নন।

বিএনপি নেতা তারেক রহমান দণ্ডিতখালেদাও জেল খাটছেন। সরকার অভিযোগ করছেআপনারা দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন?

মাহমুদুর রহমান মান্না: একটি দলের পাঁচজন নেতা মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝুলেছে। সেই দলটিকে নিষিদ্ধ করেনি সরকার। আর এখানে দুইজন নেতাকে সাজা দেওয়া হয়েছে, এটা নিয়ে সরকারের মাথাব্যথা। বিষয়টি সত্যিই হাস্যকর।

দেশের বিচার ব্যবস্থাকে সরকার এমনভাবে কবর দিয়েছে যে, এর ওপর আমাদের আর কোনো আস্থা নেই। প্রধান বিচারপতিকে যখন জোরপূর্বক পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়, তখন আর কিছু বাকি থাকে না। সেই কারণে কোর্টের রায়কে বিবেচনায় নিয়ে রাজনীতি নির্ধারণ আমরা করছি না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here