অভিজ্ঞ সাবের, উদ্যমী আফরোজা

0
64
সাবের হোসেন চৌধুরী ও আফরোজা আব্বাস

ভোটের মাঠে একজনের অভিজ্ঞতা ২২ বছরের, সে তুলনায় অপরজনকে নবাগতই বলা যায়। এক পক্ষ দুই দশকের বেশি সময়ের কাজের ভেতর দিয়ে অর্জন করেছে নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়ার অভিজ্ঞতা আর জনগণের আস্থা। অন্য পক্ষ বিপুল উদ্যম নিয়ে এগিয়ে চলছে হামলা ও মামলার বাধা উপেক্ষা করে। এই অবস্থা ঢাকা-৯ আসনে ক্ষমতাসীন দল ও তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন বর্তমান সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী। অন্যদিকে ধানের শীষের প্রার্থী জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীই মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। চূড়ান্ত বিজয় ছিনিয়ে আনতে চেষ্টার ত্রুটি রাখছেন না কেউই।

 সবুজবাগ, খিলগাঁও ও মুগদা থানা নিয়ে ঢাকা-৯। ভোটার ৪ লাখ ২৫ হাজার ৫৮২। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাতজন প্রার্থী । ২০০৮ সালে আসন পুনর্বিন্যাসের আগে ঢাকা-৮ ও ঢাকা-৯ একসঙ্গে ছিল। তখন এই দুই আসন মিলিয়ে এটি ছিল ঢাকা-৬। এখানে (বর্তমান ঢাকা-৯) ১৯৯৬ সাল থেকে প্রতিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ছিলেন সাবের হোসেন চৌধুরী। এর মধ্যে ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে তিনি জয়লাভ করেন। সর্বশেষ এই আসন থেকে বিএনপির হয়ে নির্বাচন করেছিলেন মহিলা দলের সাবেক সভাপতি শিরিন সুলতানা।

স্থানীয় বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন দাস জানান, অন্যান্য আসনে স্থানীয় সাংসদকে নিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নানা অভিযোগ থাকলেও ঢাকা-৯ আসনে চিত্র একেবারেই ব্যতিক্রম। গত দুই দশকে নানা পরীক্ষায় তিনি জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে সাবের হোসেন চৌধুরীর বেশ খ্যাতি রয়েছে। এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করার পাশাপাশি সংগঠনকেও শক্তিশালী করেছেন। ব্যক্তি ইমেজে তিনি অনেক এগিয়ে।

অন্যদিকে ভোটের মাঠে আফরোজা আব্বাস নতুন। তাঁর স্বামী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের ছায়া হিসেবেই ধানের শীষের এই প্রার্থীকে দেখছেন স্থানীয় ব্যক্তিরা। স্থানীয় ব্যবসায়ী গোলাম হোসেন, গৃহবধূ লিপি আক্তারসহ অনেকেই বলেছেন, মির্জা আব্বাস এখানকার স্থানীয়। আশির দশক থেকে বিপদ–আপদে এলাকাবাসীর মানুষের সঙ্গেই ছিলেন। গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মির্জা আব্বাস কারাগারে থাকায় তাঁর অনুপস্থিতিতে আফরোজা আব্বাস দৃশ্যপটে আসেন। দিনরাত মাঠে আব্বাসের পক্ষে প্রচার করে তিনি তাঁর উদ্যমী মনোভাব দেখিয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগতে পারে।

১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর এই এলাকায় নির্বাচনী প্রচার পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় পথসভা, মতবিনিময় সভা, শোভাযাত্রা, গণসংযোগ করেছেন নৌকার প্রার্থী সাবের হোসেন চৌধুরী। ভোটারদের হাতে সবার আগে তিনি ভোটার স্লিপও পৌঁছিয়েছেন। তাঁর গণসংযোগের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল, তিনি যখন এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় পথসভা বা গণসংযোগ করতে গেছেন, তখন রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় এমন কিছু করেননি। নানা উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি এই আসনে পিছিয়ে পড়া তিনটি গ্রামকে পরিকল্পিত নগর এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগে নেমেই হামলার মুখে পড়েন আফরোজা আব্বাস। এ পর্যন্ত তাঁর গণসংযোগে চারবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবু তিনি প্রচার বন্ধ করেননি। সর্বশেষ ২৩ ডিসেম্বর মানিকনগর এলাকায় হামলার শিকার হন।

এ সময় আফরোজা আব্বাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন বের হচ্ছি, প্রতিদিন আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছি। প্রশাসন যদি আমার নিরাপত্তা দিতে না পারে, কীভাবে প্রচারণা করব? প্রতিটি জীবনের তো মূল্য আছে।’

আফরোজা আব্বাস আরও বলেন, ‘আমি আজকেও কর্মসূচির কথা সবুজবাগ থানা ও নির্বাচন কমিশনে জানিয়েছি। কিন্তু তাঁরা আমাকে জানিয়েছেন, কোনো দায়িত্ব নিতে পারবেন না। ওই এলাকায় আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাবের হোসেন চৌধুরী যাবেন, সে কারণে তাঁরা আমাকে ওই এলাকায় যেতে নিষেধ করেছেন। এরপর খিলগাঁও থানায় ফোন করলাম। তারাও যুবলীগের মিছিলের কথা বলে বারণ করল।’

প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে ঢাকা-৯ আসনে যথেষ্ট উৎসবমুখর পরিবেশ দেখেছেন জানিয়ে নৌকার প্রার্থী সাবের হোসেন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ভোটারদের মধ্যেও স্বতঃস্ফূর্ততা দেখেছেন তিনি। আশা করছেন, জনমতের প্রতিফলন ঘটবে। আওয়ামী লীগের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল নিষিদ্ধের দাবি

বাঁশ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে নির্বাচনী মিছিল নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন সাবের হোসেন চৌধুরী। সম্প্রতি তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এ–সংক্রান্ত একটি আবেদন করেছেন। প্রথম আলোকে এ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, এভাবে মিছিল করলে গোলযোগ সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে।

১২ ডিসেম্বর কমলাপুর স্কুলের সামনে আফরোজা আব্বাসের গণসংযোগে হামলার ঘটনার পর ধানের শীষের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা পরবর্তীকালে বাঁশ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল করেছিলেন।

 সাবের হোসেন চৌধুরী গতকাল রাতে বলেন, গোড়ান এলাকায় গতকাল তাঁর কর্মসূচি ছিল। কিন্তু আফরোজা আব্বাস প্রচারে যাবেন—এমন সংবাদ শুনে ধানের শীষের প্রার্থীর প্রচারে যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, তাই তিনি ওই কর্মসূচি বাতিল করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here