স্পিন সামলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জুতসই প্রস্তুতি

0
236

বাংলাদেশে আসার আগে ভারতে লম্বা সিরিজ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। উপমহাদেশের কন্ডিশনের মন্থর পিচ আর ঘূর্ণি বল তাই বেশ ক’দিন থেকেই খেলা হচ্ছে তাদের। তার ছাপ দেখা গেল বিসিবি একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনেও। শাই হোপ, কিরন পাওয়েলের ব্যাটে জুতসই রানই তুলেছে তারা।

রোববার চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে দু’দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনে ৬ উইকেটে ৩০৩ রান তুলেছে সফরকারীরা। হোপের ব্যাট থেকে এসেছে সর্বোচ্চ ৮৮ রান, পাওয়াল করেন ৭২।

বাংলাদেশ সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় পরীক্ষা হবে ব্যাটসম্যানদেরই। খেলতে হবে ঘূর্ণি বল। টস জিতে তাই কোন দ্বিধা না করেই ব্যাটিং বেছে নেন ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট।  অধিনায়ক ব্র্যাথওয়েটই কেবল ফিরেছেন দুই অঙ্কের আগে। বাকি সবাই উইকেটে সেট হতে পেরেছেন। এরমধ্যে হোপ আর পাওয়েল তো প্রভাব বিস্তার করেই খেলেছেন।

সকালেই বিসিবি একাদশকে সাফল্য এনে দেন পেসার শফিউল ইসলাম। দলের ১১ রানে ভেতরে ঢোকা বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ৬ রান করা ব্র্যাথওয়েট।  ওই এক উইকেটই। লাঞ্চের আগে আর কোন বিপর্যয়ে পড়েনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে স্পিন বলের অনুশীলনের সুযোগ কম দিতে বিসিবি একাদশ নেমেছিল চার বিশেষজ্ঞ পেসার নিয়ে। বিশেষজ্ঞ স্পিনার খেলেছেন কেবল দুজন। তবে দিন শেষের হিসাবে দেখা গেল বল করেছেন স্পিনাররা বেশি।

সবচেয়ে বেশি বল করা অফ স্পিনার নাঈম হাসান ২৭ ওভার বল করে ১০৫ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ১৫ ওভার ৩ বল করে ৫৫ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। অনিয়মিত বাঁহাতি স্পিনার ফজলে মাহমুদ রাব্বি ৫ ওভার বল করে ১১ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। বিসিবি একাদশের মূল দুই স্পিনারকে সাবলীলভাবেবে খেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা। এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের উইকেট ছিল অনেকটা ফ্ল্যাট। অল্প সবুজ ঘাস থাকলেও তা থেকে সুবিধা পাননি পেসাররা।  শুরুতে উইকেট খোয়ানো তাই প্রভাব ফেলেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ে। দ্বিতীয় উইকেটে গড়ে উঠে হোপ-পাওয়েলের শতরানের জুটি।

জুটিতে দুজনেই স্পিন খেলেছেন অনায়াসে। পেসারদের যথারীতি সামলেছেন দারুণ। বিসিবি একাদশের কোন বোলারই ধন্দে ফেলতে পারেননি তাদের। ৮৮ রান করে হোপ স্বেচ্ছায় অবসর নিলে আলগা হয় তাদের বাধন।

হোপ মাঠ ছাড়ার পর সেঞ্চুরির দিকে এগুচ্ছিলেন পাওয়েলও। তিনি ফিরেছেন জাকির হাসানের দারুণ ক্যাচে। ফজলে মাহমুদ রাব্বির বলে সুইপ করতে গিয়েছিলেন পাওয়েল। ঠিকমতো খেলতে পারেননি শট। ব্যাটের কানায় লেগে উইকেট কিপার লিটনের গ্লাভস ছোঁয়ে যায় স্লিপে দাঁড়ানো শান্তর হাতে। শান্ত রাখতে না পারায় শর্ট লেগ থেকে ছুটে উড়ন্ত বল লাফ দিয়ে হাতে জমান জাকির।

এই ক্যাচের পরই যেন কিছুটা তেজ পায় বাংলাদেশের বোলাররাও।  সারাদিন গড়পড়তা বল করতে থাকা নাঈম হাসান চা বিরতির খানিক আগে দারুণ এক স্পেল করেন। কয়েকবার ব্যাটসম্যানদের পরাস্ত করার পর উইকেটও আসে তার হাত ধরে। নাঈমের অল্প টার্ন করা বলে কাট করতে গিয়ে স্টাম্প খুয়ান সুনীল আম্রিস।

ভারতে নজরকাড়া ব্যাটিং করা শিমরন হেটমায়ারকেও আউট করেছেন নাঈম। জায়গা বানিয়ে খেলতে গিয়ে এই বাঁহাতি মিড অনে তুলে দেন সহজ ক্যাচ।

এই ম্যাচের অধিনায়ক রুবেল হোসেন ছিলেন বিবর্ণ। শুরুর স্পেলে মার খাওয়ার পর মাঝে গড়পড়তা বল করেন, শেষ বিকেলে নিচু হওয়া বলে ফিরিয়েছেন রোস্টন চেজকে। এর আগে সৌম্য সরকার শেন ডাওরিচকে ক্যাচ বানান উইকেটের পেছনে।

আলোক স্বল্পতায় দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় ইনিংস ঘোষণার সিদ্ধান্ত দেয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

প্রথম দিন শেষে

ওয়েস্ট ইন্ডিজ– ৩০৩/৬ (৮৬.৩) ( ব্র্যাথওয়েট ৬, পাওয়েল ৭২, হোপ ৮৮ অবসর, সুনিল ১৭, চেজ ৩৬, হেটমায়ার ২৪, ডওরিচ ২৪, রেইফার ব্যাটিং ১৪*, পল ব্যাটিং ১৮*  ; শফিউল ১/২২, রুবেল ১/৪০, ইবাদত ০/৩৬, রবিউল ০/২১, নাঈম ২/১০৫, রিশাদ ০/৫৫, ফজলে মাহমুদ ১/১১, সৌম্য ১/১০)

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here