আবার ক্ষমতায় এলে বস্তিতে উঠবে ফ্ল্যাট

0
192
আবার ক্ষমতায় এলে বস্তিতে উঠবে ফ্ল্যাট

কামরাঙ্গীর চরে জনসভাস্থলে পৌঁছে জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর দরিদ্র মানুষের জীবন মানোন্নয়নে তাঁর সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, পুনরায় ক্ষমতায় এলে তাঁর সরকার নগরীর ঘিঞ্জি এলাকা সংস্কারের পাশাপাশি বস্তিবাসীদের বসবাসের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ করে দেবে। তিনি বলেন, ‘শুধু বড়লোকেরাই ফ্ল্যাটে থাকবে এবং বহুতল ভবনে থাকার সুবিধা পাবে, তা হবে না। মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষেরাও যাতে দৈনিক, সাপ্তাহিক অথবা মাসিক মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে ফ্ল্যাটে থাকতে পারে আমরা সেই ব্যবস্থাই করে দিচ্ছি, যেখানে সবাই সুন্দরভাবে বাঁচার সুযোগ পাবে।’ তিনি গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা-২ আসনের অন্তর্গত কামরাঙ্গীর চরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কামরাঙ্গীর চরের যারা ছিন্নমূল মানুষ, বস্তিবাসী, তারা যেমন ভাড়া দিয়ে থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এ এলাকায় ১০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়েছি। এই ফ্ল্যাটগুলোতে তারা দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং মাসিক নামমাত্র ভাড়ায় থাকতে পারবে।’ আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘পুরো ঢাকা শহর ঘিরে আমরা একটা রিং রোড তৈরি করব। সেই রিং রোডটি হবে সম্পূর্ণ এলিভেটেড, যাতে দ্রুতগামী সব যানবাহন চলতে পারে।’ তিনি বলেন, ঢাকা শহর ঘিরে যে পাঁচটি নদী আছে, সেই নদীগুলোকে খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি কামরাঙ্গীর চর খালটি শুকিয়ে ক্ষীণকায় হয়ে আসার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘জলাধারকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। এই খাল বন্ধ হওয়া উচিত নয়।’ তিনি জনসভায় উপস্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনকে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে খালটি উদ্ধার করে খালে যাতে আরো ভালো পানি থাকে সেই ব্যবস্থা করতে বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি ময়লা ফেলে ফেলে এই খাল বন্ধ করা হচ্ছে এবং ভূমিখেকোরা এখানকার অনেক অংশ দখল করে নিয়েছে। আমি মনে করি, কোনো জলাধার বন্ধ করা উচিত নয়, বরং এর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা, দুই পাড় বেঁধে দেওয়া, পানিটা যাতে নিষ্কাশন হয় তার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। তাহলে পরিবেশটা ভালো হবে, বাতাসও স্বাস্থ্যকর থাকবে এবং মানুষের বসবাস আরো আরামদায়ক হবে। আমরা সেই ব্যবস্থাটা করতে চাই।’ শেখ হাসিনা বলেন, যারা এই খাল দখল করছে, এই দখল করা বন্ধ করতে হবে। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে সমাবেশে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনসহ ঢাকা দক্ষিণের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা বক্তৃতা করেন। দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ সমাবেশটি পরিচালনা করেন।

শেখ হাসিনা সমাবেশে ঢাকা দক্ষিণের নৌকা এবং মহাজোটের সব প্রার্থীর সঙ্গে জনগণের আনুষ্ঠানিক পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘যেহেতু এই ঢাকা-২ আসনের সঙ্গে সাভারের কিছু অংশ আছে, কেরানীগঞ্জের কিছু অংশ আছে, তাই সাভারেরও আমরা ব্যাপক উন্নয়ন করেছি এবং সেখানে ১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১২টি উচ্চ বিদ্যালয় ভবন করে দিয়েছি। কলেজ-মাদরাসার উন্নয়ন করা হয়েছে, তেতুলঝড়া ডিগ্রি কলেজ এমপিওভুক্ত করা হয়েছে, আমিনবাজার কবরস্থান সংস্কার করা হয়েছে, ৩৪টি সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে, তিনটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে; তেমনি কেরানীগঞ্জসহ সমগ্র বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়নের কাজ আমরা করে যাচ্ছি। এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা থাকাটা একান্তভাবে দরকার। কারণ এরই মধ্যে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শুরু হয়েছে, মেট্রো রেল নির্মাণ করে যাচ্ছি, যানজট দূর করার জন্য ফ্লাইওভার নির্মাণ করেছি এবং বিভিন্ন কর্মসূচি নিচ্ছি।’

ঢাকাকে নিয়ে তাঁর সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘ঢাকায় আমরা পাতাল রেল করব। তার সমীক্ষার কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। আর নদীগুলো খনন করে এর নৌপথটাও আমরা সচল করে দেব। এভাবে ঢাকার যেমন সৌন্দর্য বৃদ্ধি হবে, যোগাযোগব্যবস্থাও উন্নত এবং যানজটও মুক্ত হবে। সেদিকে লক্ষ রেখেই আমরা মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আর বাংলাদেশব্যাপী পরিকল্পনা তো আমাদের রয়েছেই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে জনগণের জন্য আমার বাবা জেল-জুলুম-অত্যাচার সহ্য করেছেন, নিজের জীবনটা পর্যন্ত দিয়ে গেছেন, সেই জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনই আমার লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে দেশের মানুষের ভাগ্য আমরা পরিবর্তন করতে শুরু করেছি। আগামী নির্বাচনে যদি আমরা জয়ী হয়ে আসতে পারি, তাহলে এ দেশে আর কোনো মানুষ দরিদ্র থাকবে না। প্রত্যেক মানুষ সুন্দরভাবে জীবন যাপন করতে পারবে। আমরা সেভাবেই পরিকল্পনা নিয়েছি।’

ঢাকার অতীত দুরবস্থার কথা স্মরণ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘পানির জন্য হাহাকার ছিল, ওয়াসার দেড় শ টাকার পানির গাড়ি ১৫০০ টাকা দিয়ে কিনতে হতো। দিনভর চলত বিদ্যুতের লোডশেডিং, বিদ্যুৎই ছিল না। রাস্তাঘাটে আরো করুণ অবস্থা ছিল, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা বলতে গেলে ছিলই না। একটি অসহনীয় অবস্থা ছিল। এ কারণে বিএনপির এমপিরা জনগণের রুদ্ররোষে পতিত হয়েছিল। এমনকি তাদের ধাওয়া খেয়ে বিএনপির এমপিরা পালাত; যার জন্য এক এমপির নামই হয়ে গেল দৌড় সালাহ উদ্দিন।’ গত ১০ বছরে তাঁর সরকার পানি ও বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করতে পেরেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেমন উৎপাদন বাড়িয়ে মানুষের খাদ্য সংস্থান করেছি, তেমনি সঞ্চালন লাইন তৈরি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে গ্রাম পর্যন্ত আমরা মানুষকে বিদ্যুৎ দিয়েছি এবং দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। এই কামরাঙ্গীর চর একটি চরম অবহেলিত একটি এলাকা ছিল, যার জলাবদ্ধতা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল। এর ১৭টি ইউনিয়নকে আমরা ঢাকা সিটি করপোরেশনে সম্পৃক্ত করে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি করেছি। সুলতানগঞ্জকে সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছি। তা ছাড়া এখানে আমরা শেখ জামাল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়সহ সরকারি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মাণ করে দিয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগে এখানে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল না, তারও ব্যবস্থা করেছি। ছয়টি স্কুল-কলেজ এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। ইস্পাহানী ডিগ্রি কলেজ এবং শাক্তা উচ্চ বিদ্যালয়কে আমরা জাতীয়করণ করেছি এবং ৩১ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতালও করে দিয়েছি। তারানগরে আমরা একটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করছি এবং এই কামরাঙ্গীর চরে আমরা একটি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় করে দেব। ৯৯ কিলোমিটার রাস্তা, ৯৫ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন এবং ড্রেনেজ সিস্টেম চালু করা হয়েছে। ফলে বৃষ্টিতে এখানে আর কোনো জলাবদ্ধতা নাই। ১৯৯টি সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে এবং সব সড়কে এলইডি বাতি সংযোজন করা হয়েছে। ৩৯টি ছোট-বড় কালভার্ট এবং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে।’

তিনি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে পাঠ্য বই, ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে দুই কোটির অধিক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও উপবৃত্তি প্রদান এবং কমিউনিটি ক্লিনিক সৃষ্টি করে সেখান থেকে ৩০ ধরনের ওষুধ বিনা মূল্যে বিতরণের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংস্কার ও সম্প্রসারণে তাঁর সরকারের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বহু পুরনো, আমরা এর মূল ভবনটা ঠিক রেখে এর সামনের দিকে আরো সম্প্রসারণের জন্য এরই মধ্যে প্রকল্প গ্রহণ করেছি। এর নকশাও আমি দেখে রেখেছি। ইনশাআল্লাহ আগামীবার সরকারে আসতে পারলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে আমরা নতুন আঙ্গিকে সাজাব এবং অত্যন্ত আধুনিক একটি হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল কলেজ আমরা নির্মাণ করে দেব।’ তা ছাড়া ঢাকার আশপাশের যেসব এলাকায় চিকিৎসাসেবা নাই সেসব স্থানেই আমরা হাসপাতাল নির্মাণ করে দিচ্ছি। অর্থাৎ সমগ্র দেশটাকেই আমরা সার্বিকভাবে উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা নিয়েছি।’ এ সময় তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ঢাকা দক্ষিণের মতো ঢাকা উত্তরেও আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করে দেওয়ার সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গ্র্যাজুয়েশন প্রাপ্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে, এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা একান্তভাবে প্রয়োজন। তিনি আসন্ন নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে বলেন, ‘অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিল সেই বিএনপি-জামায়াত জোট জনগণের কল্যাণে কিছু দিতে পারে নাই কিন্তু নিজেরা অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছে, বিদেশে অর্থ পাচার করেছে এবং এই পাচার করতে গিয়ে ধরাও পড়েছে। তারা এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। অগ্নিসন্ত্রাস করে মানুষ হত্যা করেছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে মানুষ হত্যা করেছে। এমনকি ১৯৯৩ সালে প্রথম যখন ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হলো, যেখানে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ জয়লাভ করেছিলেন, তখন কেন আওয়ামী লীগ জয়লাভ করল সে জন্য এই লালবাগে ছয়জন মানুষকে গুলি করে হত্যা করেছিল ওই বিএনপির সন্ত্রাসীরা।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি আরো অভিযোগ করে বলেন, ‘ঠিক এভাবেই তারা (বিএনপি) সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও লুটপাট ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি। মানুষকে কিছু দিতে পারে নাই। শুধু নিতে পেরেছে। আর আওয়ামী লীগ আসে মানুষকে দিতে, কারণ এটি জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন এবং জনকল্যাণই এর কাজ।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমার আবেদন থাকবে এই ঢাকা দক্ষিণে আমরা আওয়ামী লীগ এবং মহাজোট থেকে যাদের প্রার্থী করেছি তাদের জয়যুক্ত করতে হবে।’ এ সময় তিনি এই সভার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের প্রার্থীদেরকে জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

এই প্রার্থীরা হচ্ছেন ঢাকা-২ আসনে নৌকার প্রার্থী খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম, ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ) আসনে নৌকার প্রার্থী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নসরুল হামিদ, ঢাকা-৪ আসনে মহাজোটের প্রার্থী লাঙল মার্কায় আবু হোসেন বাবলা, ঢাকা-৫ আসনে নৌকা মার্কার প্রার্থী হাবিবুর রহমান মোল্লা, ঢাকা-৬ আসনে মহাজোটের প্রার্থী লাঙল মার্কায় অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশীদ, ঢাকা-৭ আসনে নৌকার প্রার্থী হাজি সেলিম, ঢাকা-৮ আসনে মহাজোটের প্রার্থী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী নৌকা মার্কা প্রতীকে রাশেদ খান মেনন, ঢাকা-৯ আসনে নৌকার প্রার্থী সাবের হোসেন চৌধুরী এবং ঢাকা-১০ আসনে নৌকার প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

এ দেশের কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতী মানুষের জন্যই তাঁর রাজনীতি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমরা ভোট চাই। ভোট দিয়ে আমাদেরকে জয়যুক্ত করুন। বাংলাদেশকে আমরা ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্তভাবে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব। সেই সোনার বাংলাদেশ গড়ার জন্যই ৩০ ডিসেম্বর নৌকা মার্কায় ভোট চাই।’ দেশকে গড়ে তোলার জন্য এ সময় শিক্ষিত সুনাগরিক হিসেবে নবীন প্রজন্মকে গড়ে তোলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমি বলব, তোমাদের সবাইকে লেখাপড়া করতে হবে এবং ্এই বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

তিনি এ সময় ২০২১ সালে বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী নাগাদ দেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলায় তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে শতবর্ষ মেয়াদি ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ প্রণয়নেও সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী জনসভায় নৌকা মার্কায় ভোট প্রদানের জন্য জনগণের প্রতিশ্রুতি চাইলে উপস্থিত জনতা দুই হাত তুলে তাতে সম্মতি জানায়। বঙ্গবন্ধুকন্যা জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমি আছি আপনাদের সেবায়। কারণ আপনাদের সেবা করাই আমার কাজ।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here